পণের দাবিতে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন, ২১ বছর পর যাবজ্জীবন সাজা অভিযুক্ত স্বামীর
আমার কথা, ৮ মে
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
পণের দাবিতে নৃশংসভাবে স্ত্রীকে হত্যা। ২১ বছর পর স্বামীকে সাজা দিল আদালত। দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার রেল কলোনি এলাকার নরসিংহ সেনাপতির বিয়ে হয় রূপা সেনাপতির। বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে স্ত্রীকে অত্যাচার করত স্বামী। তিন মাস পরে নৃশংসভাবে স্ত্রীকে খুন করে নরসিংহ। স্ত্রীকে প্রথমে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ফেলা হয়। দেহ ও কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দুটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে বাড়ির এক কোণে, কয়লা রাখার জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার দিন বাড়িতে ফিরে বাপি সেনাপতির মা-বাবা পুত্রবধূর খোঁজ করলে অভিযুক্ত প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পরে সে জানায়, বৌমাকে খুন করা হয়েছে এবং দেহাংশ কয়লার ঘরের পাশে রাখা রয়েছে। এরপরই রেল কলোনি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোকওভেন থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহাংশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অভিযুক্ত পলাতক হয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে কোকওভেন থানার পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। বিচার শেষে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা আদালতের বিচারক গিরিজানন্দ জানা অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুক্রবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সুজিত রায়ের কথাই,”২০০৫ সালের একটি মামলা দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে চলছিল। পুলিশি তদন্তে খুনের কারণ উঠে আসে। অভিযুক্ত স্বীকার করেন তার স্ত্রীকে সে খুন করার কথা। শেষ পর্যন্ত বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেন।”



