দুর্গাপুর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, ‘এআইএম প্যাসিফিকা ইন্টেলিজেন্স’-এর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ
আমার কথা, ৭ আগস্ট
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বর্তমান সময়ে দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহার যেমন সুবিধা এনে দিচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও সমস্যাও। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষামূলক উদ্যোগ। ‘এআইএম প্যাসিফিকা ইন্টেলিজেন্স’-এর উদ্যোগে চালু হতে চলেছে এমন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যেখানে শুধুমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্রিক বা তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে হাতে-কলমে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর। এই পাঠক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যপ্রণালী, প্রযুক্তিগত ভিত্তি, বিভিন্ন প্রয়োগক্ষেত্র এবং বাস্তব জীবনে এর নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের মতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তার নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। যেমন একটি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ চালকের হাতে থাকে, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগে একদিকে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদেরা, অন্যদিকে রয়েছেন একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী। তাঁদের লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। সংস্থার সদস্যদের বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অন্ধ নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিকে সৃজনশীল, সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর মানসিকতা গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাঁদের বিশ্বাস, দুর্গাপুর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে।



