সিটি সেন্টার প্রভাতী প্রাণায়াম ক্লাবে রাখী বন্ধন উৎসব
আমার কথা, ২৮ আগস্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:

আজ রাখী পূর্ণিমা ও রাখী উৎসব। সকালে সিটি সেন্টারের নন্ কোম্পানী রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রভাতী প্রাণায়াম ক্লাবের সদস্যারা রাখী বন্ধন উৎসবের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তজার্তিক পাওয়ার লিফটার সীমা দত্ত চ্যাটার্জি, আমার কথা নিউজের সম্পাদক মুনমুন দত্ত, যোগবিদ তরুণ মুখার্জি সহ সিটি সেন্টারের প্রভাতী প্রাণায়াম
ক্লাবের সদস্যারা। মহিলা সদস্যারা উপস্থিত সবাইকে পবিত্র রাখী পরিয়ে ভাই বোনের সৌহার্দ্যপূর্ন সম্পর্ককে দৃঢ় করেন।
রাখী পূর্ণিমা ভারতবর্ষের এক জনপ্রিয় প্রীতি বন্ধনের উৎসব। এদিন বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়।ইতিহাস থেকে জানা যায় প্রায় ছয় হাজার বছর পূর্বে আর্য সভ্যতার সূচনা থেকে সিন্ধু সভ্যতায় রাখীর সূচনা হয়। এই রাখী ভাই বা দাদার প্রতি দিদি ও বোনের ভালোবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গল কামনার প্রতীক। মহাভারতে আছে একটি যুদ্ধে কৃষ্ণের কব্জিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী তার শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ অভিভূত হয়ে দ্রৌপদীকে নিজের বোন বলে অভিহিত করেন ও তাঁকে এর প্রতিদান দেবেন বলে জানান। বহু বছর পরে পাশাখেলায় কৌরবরা দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে তার প্রতিদান দেন। এভাবে রাখী বন্ধনের সূচনা হয়।
এতো গেল মহাভারতের কথা। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ সালে মহামতি আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন তখন তার স্ত্রী রোজানা রাজা পুরুকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে অনুরোধ করেন আলেকজান্ডারের কোন ক্ষতি না করতে। পুরু রোজানার দেওয়া পবিত্র সুতোকে সম্মান করতে যুদ্ধে আলেকজান্ডারকে কোন আঘাত করেন নি।
চিতরের রানী কর্ণাবতী ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে একটি রাখী পাঠান। গুজরাটের সুলতান বাহাদুর শাহ চিতরের আক্রমণ করলে বিধবা রানী কর্ণাবতী অসহায় বোধ করে বোন হিসেবে হুমায়নের সাহায্য প্রার্থনা করে রাখী পাঠান।কর্ণাবতীর রাখী প্রেরণে অভিভূত হুমায়ুন চিতরকে রক্ষা করতে সেনা পাঠান। কিন্তু তার সেনা পাঠাতে দেরি হয়েছিল। শোনা যায় ইতিমধ্যে বাহাদুর শাহ চিতরের আক্রমণ করে দুর্গের দখল নেন। সম্ভ্রম বাঁচাতে রানী তেরো হাজার পুরোস্ত্রীকে নিয়ে জহরব্রত পালন করে আগুনে আত্মাহুতি দেন। চিতর পৌঁছে হুমায়ুন বাহাদুর শাহকে উৎখাত করে তার ছেলে বিক্রমজিৎকে সিংহাসনে বসিয়ে বোনের রাখীর সম্মানের প্রতিদান দেন।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ রদ এর প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ হিন্দু মুসুলমান খৃস্টান বৌদ্ধ সবার মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার ডাক দিয়ে রাখী উৎসবের আহ্বান জানান। তিনি লেখেন বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার স্থল একই হোক একই হোক হে ভগবান। অক্টোবর ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কলকাতার জগন্নাথ ঘাটে স্নান করে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জ্যোতিরিন্দ্র
ঠাকুর সহ স্বদেশী আন্দেলনরত আরও অনেকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পরস্পরকে সম্প্রীতির রাখী পরাতে থাকেন। বাংলার সর্বত্র লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা যাতে কার্যকরী না হয় তাই সর্বত্র পালন করা হয় সম্প্রীতির রাখী বন্ধন। এর ফলে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। হিন্দু পঞ্জিকা মতে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখী উৎসব পালিত হয়।



