৪৪তম রাজ্য যোগাসন প্রতিযোগিতা
আমার কথা, ২৮ সেপ্টেম্বর
প্রণয় রায়, লাউদোহা:

আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাক্ বৈদিক যুগে ভারতবর্ষের সিন্ধু সভ্যতায় প্রথম যোগাসনের সূচনা হয়। বৈদিক যুগে ঋকবেদে প্রথম যোগাসনেরএ কথা উল্লেখ করা হয়।এরপর আজ থেকে প্রায় দু হাজার বছর আগে ঋষি পতঞ্জলি প্রথম যোগসূত্র গ্রন্থের প্রনেতা। তিনি মানসিক বিকাশ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অষ্টাঙ্গ যোগ প্রবর্তন করেন। শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য ভারতবর্ষের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিবছর এই দিনটিকে বিশ্ব যোগ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৩৩ টির ও বেশী দেশ এই দিনটি পালন করা হয়। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে যোগ ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই।
লাউদোহার ইছাপুর সি এন স্কুলে তিনদিন ব্যাপী
৪৪তম পশ্চিম বাংলা রাজ্য যোগাসন চাম্পিয়নশীপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হল। পশ্চিবাংলার ২০ টি জেলার ৬০০ জন বিভিন্ন বয়সী বালক, বালিকা সহ বিভিন্ন বয়সী মহিলা ও পুরুষ প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায়,অংশ
নেন।
যোগা স্পোর্টস সোসাইটি, তারকেশ্বর এর পরিচালনায় ও পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশন ও ইছাপুর সি এন হাই স্কুলের উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচন্ড বৃষ্টিতে প্রথম ও দ্বিতীয় দিন এই যোগাসন প্রতিযোগিতা কিছুটা বিঘ্নিত হলে ও উদ্যোক্তাদের সুপরিকল্পিত পরিচালনায় প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতাটি সুষ্টুভাবে সম্পাদিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন এই প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারী, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুদেব রায়, রাজ্য যোগাসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস চ্যাটার্জি, ইছাপুর সি এন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ গোপ, এই প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্যোক্তা ও পশ্চিম বর্ধমান পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট ফিজিকাল কালচার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী তরুণ মুখার্জি, যুগ্ম সম্পাদক সীমা দত্ত চ্যাটার্জি সহ অন্যান্যরা।
পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক জিতেন তেওয়ারি বলেন এই বিশাল রাজ্য যোগাসন প্রতিযোগিতা শহর দুর্গাপুরের বাইরে পাণ্ডবেশ্বরের একটি গ্রাম ইছাপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের ছেলে মেয়েরা যোগব্যায়ামে উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরো বলেন শরীর ও মন সুস্থ রাখতে সবার যোগাসনে যুক্ত হওয়া উচিত । এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যাবার পর এখানকার মানুষেরা যোগাসনের ব্যাপারে যেন উৎসাহিত হয়। তিনি এ বিষয়ে এই স্কুলকে সব রকম সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিযোগিতার যুগ্ম সম্পাদক সীমা দত্ত চ্যাটার্জি বলেন পুরো একটা যোগময় পরিবেশে ইছাপুর সি এন হাই স্কুলে এই রাজ্য যোগাসন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের উৎসাহ এই প্রতিযোগিতাটিকে এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক তরুণ মুখার্জি বলেন তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই যোগাসন প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের কুড়িটি জেলা থেকে ৬০০ র ও বেশি বিভিন্ন বয়সী ছেলে ও মেয়ে ও পুরুষ ও মহিলা প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
শ্রী জিতেন তেওয়ারি তার ভাষণের পর আগে হয়ে যাওয়া শিশু বিভাগের বিজয়ীদের হাতে কিছু পুরস্কার তুলে দেন।
প্রতিযোগিতার সমাপ্তি দিবসে উপস্থিত ছিলেন মাইথন অ্যালয়স এর সি এম ডি সুভাষ আগরওয়ালা। তিনি এই চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের মধ্যে সেরার সেরা প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হয় হুগলি জেলার বিনোদ চৌধুরী ও দ্বিতীয় সেরার সম্মান লাভ করে দক্ষিণ কলকাতার প্রতিযোগী সুরঞ্জয় পাল।
মেয়েদের মধ্যে সেরার সেরা প্রতিযোগী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হন নদীয়া জেলার প্রমিতি বর্মন ও দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার পান দক্ষিণ ২৪ পরগনার সায়ন্তিকা ভৌমিক।
এই প্রতিযোগিতায় দলগত চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ কলকাতা যোগাসন অ্যাসোসিয়েশন ও রানার্স অফ হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা।



