সন্দেহজনক চিকিৎসকদের ‘আগাম সতর্কবার্তা’! দুর্গাপুরে মুখ খুললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আমার কথা, ২১ সেপ্টেম্বর
মুনমুন দত্ত, দুর্গাপুর:
প্রশাসনের নজরদারি শুরু হওয়ার আগেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে সন্দেহের তালিকায় থাকা চিকিৎসকদের কাছে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা, এমনকী নজর এড়াতে এলাকা ছাড়ারও অভিযোগ উঠছে। দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
বিধাননগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা শিক্ষা এবং ব্লাড ব্যাংক নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ব্লাড ব্যাংক নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের মাঝেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে দাবি করা হয়, কোনও পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। ব্লাড ব্যাংকেও কোনও সমস্যা নেই। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নিয়ম মেনেই রিনিউয়াল প্রক্রিয়া চলছে।
রাজ্যের সরকারি মেডিকেল কলেজ নিয়েও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে ২৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। আরও কয়েকটি মেডিকেল কলেজ তৈরির কাজ চলছে। বালুরঘাট ও কালিম্পংয়েও মেডিকেল কলেজ তৈরির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবক্ষয় নিয়েও অনুষ্ঠানে সরব হন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র বর্তমান সরকারকে দায়ী করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। বিধানচন্দ্র রায়ের পর থেকেই ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকার এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়েও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একাধিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই পরিস্থিতি বদলানোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
অন্যদিকে, চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে সতর্কবার্তা দেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। তাঁর বক্তব্য, নতুন নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার মান ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষায় গুণগত মান বজায় রাখার উপর জোর দেন তিনি।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও অনুষ্ঠানে তথ্য তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্যসচিবের দাবি, প্রকল্পটি দ্রুত এগোচ্ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত পরিষেবাও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশাল, দুর্গাপুরের বিধায়করা এবং প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।



