বিজেপির মাল্যদান, পাল্টা দুধে শুদ্ধিকরণ কংগ্রেসের নেহেরু বিতর্কে ফের তপ্ত দুর্গাপুর
আমার কথা, ৩১ আগস্ট
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি! সেই মূর্তি ঘিরে বিতর্কের আঁচ ছড়িয়েছিল দুর্গাপুর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেও। এবার দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন স্কুল চত্বরেই পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হল নেহেরুর মূর্তি। আর মূর্তি ফিরতেই শুরু হল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। প্রথমে বিজেপির মাল্যদান। তার পরেই দুধ দিয়ে মূর্তি শুদ্ধিকরণ করে পাল্টা জবাব কংগ্রেসের। সোমবার দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন স্কুলের পাশে মেডিটেশন সেন্টারে নেহেরুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি পুনঃস্থাপন করা হয়। এরপর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। স্কুল চত্বরে পৌঁছে মূর্তিতে মাল্যদান করেন স্পষ্ট করেন বিজেপি নেতারা। অভিযোগ ওঠেছিল, রাখি পূর্ণিমার দিন দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন রোডের ওই মেডিটেশন সেন্টার থেকে পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর। অভিযোগের আঙুল ওঠে বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বিজেপি সোমবার সেই বিতর্কের মাঝেই নেহেরুর মূর্তি পুনরায় স্কুল চত্বরে বসানো হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মূর্তি সরানোর ঘটনায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হয়েছে। তবে বিজেপির মাল্যদানের পরেই পরিস্থিতি নেয় নতুন মোড়। পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী-সহ কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা বিজেপি চলে যাওয়ার পর সেখানে যায়। এরপর নেহেরুর মূর্তিতে দুধ ঢেলে শুদ্ধিকরণ করেন তাঁরা। মাল্যদান করেও বিজেপিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি,”নেহেরুর মূর্তি ফেলে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। বিজেপি এই ধরনের সংস্কৃতির পক্ষে নয়। নিজেরাই জহরলাল নেহেরুর মূর্তি ফেলে দিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাতে চেয়েছিল। আমরা সেই মূর্তি তুলে দিলাম, মাল্যদান করলাম, শ্রদ্ধা জানালাম।” পাল্টা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “মূর্তি সরানোর ঘটনার সঙ্গে বিজেপির লোকজনই যুক্ত। এই কাজ বিজেপির মধ্যেই হয়েছিল। জহরলাল নেহেরু, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে সেই দেশদ্রোহী শক্তিরা এখানে এসেছিল। সেই জন্যই আমরা দুধ দিয়ে পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুকে স্নান করালাম।”



