উজবেকিস্তান বিশ্বকাপে ডাক, স্বপ্নের পথে টাকার বাধা! দুর্গাপুরের ১০ বছরের ‘গোল্ডেনগার্ল’ আরাধ্যার পাশে কে?
আমার কথা, ২০ সেপ্টেম্বর:
মুনমুন দত্ত, দুর্গাপুর:
বয়স মাত্র ১০। কিন্তু পদকের সংখ্যায় ইতিমধ্যেই অনেককে পিছনে ফেলেছে দুর্গাপুরের খুদে কিকবক্সার আরাধ্যা ধীবর। জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক—একাধিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য, থাইল্যান্ডের বিশ্বকাপে জোড়া সোনা, আর এবার আরও বড় স্বপ্ন। উজবেকিস্তানের তাশখন্দে কিকবক্সিং বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে লড়াই করার সুযোগ পেয়েছে এই খুদে ‘গোল্ডেনগার্ল’।
আগামী ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর তাশখন্দে বসতে চলেছে বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় তিন হাজার প্রতিযোগীর অংশ নেওয়ার কথা। সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই দেশের তিরঙ্গা উঁচুতে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরাধ্যা।
কিন্তু স্বপ্ন যত বড়, বাধাটাও ততটাই কঠিন। বিশ্বকাপে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন, ভিসা, বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া, ক্রীড়া সরঞ্জাম-সহ সব মিলিয়ে প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। জাতীয় কিকবক্সিং ফেডারেশনের তরফে কিছু খরচ বহন করা হলেও বাকি বিপুল অর্থ জোগাড় করা এখনও পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাত্র দুই বছরের অনুশীলনেই আরাধ্যার সাফল্যের ঝুলিতে জমেছে কুড়িটিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক। ২০২৫ সালে ওয়াকো ওপেন আন্তর্জাতিক কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি সোনা ও একটি রুপো জয়ের পর থাইল্যান্ড বিশ্বকাপে জোড়া স্বর্ণপদক। জাতীয়, রাজ্য, দক্ষিণবঙ্গ এবং স্কুল-কলেজ স্তরের প্রতিযোগিতাতেও রয়েছে একাধিক পদক।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের পরেই এসেছে তাশখন্দ বিশ্বকাপের ডাক। আরাধ্যার পরিবার ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরে জমা দিয়েছে। দপ্তরের তরফে অর্থ দপ্তরের অনুমোদন মিললে সাহায্যের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর।
আরাধ্যার মা কাকলি ধীবর জানান, মেয়ের আন্তর্জাতিক সফরের খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। গত বছর থাইল্যান্ডে মেয়েকে পাঠাতেও ঋণ নিতে হয়েছিল। এবারও সাহায্য না মিললে ফের ঋণ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় বিধায়কদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাঝির কথায়, আরাধ্যার প্রতিভা ও পরিশ্রম দুটোই অসাধারণ। তাঁর দাবি, সঠিক সহযোগিতা পেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে এই খুদে খেলোয়াড়।
ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি স্কুল আরাধ্যার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মেয়ের লড়াই নিশ্চিত করতে সরকারি সাহায্য ও কোনও সহৃদয় স্পনসরের অপেক্ষায় পরিবার।
পদকের ঝুলিতে সাফল্য, সামনে বিশ্বকাপ—শুধু টাকার অভাবে যেন থেমে না যায় দুর্গাপুরের এই খুদে প্রতিভার দৌড়।



