মন্দির নিয়ে রাজনীতি করিনা, ছোট থেকেই মন্দিরে যাই”-দুর্গাপুরে জগন্নাথমন্দির পরিদর্শণে দিলীপ
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১১ জুনঃ
“ধর্মের সাথে ভক্তের সম্পর্ক এটাই আসল। কে কোন মন্দির করেছে ‘ওসব রাজনীতি নিয়ে আমি ভাবি না”জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রার দিন দুর্গাপুরে ইস্পাত নগরীর সি-জোনের জগন্নাথদেবের মন্দির দর্শণ করতে এসে এই কথাই বললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার সস্ত্রীক মন্দিরে যান দিলীপবাবু। ইতিমধ্যেই দীঘায় জগন্নাথদেবের মন্দিরের উদ্বোধনের দিন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সেই মন্দিরে গিয়ে দলীয় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন দিলীপবাবু। যদিও সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ দিলীপবাবু দুর্গাপুরে জগন্নাথ মন্দিরে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দেন যে, “আমি ছোট থেকেই মন্দিরে যাই। আমার বাড়ির সামনে একটি শিবমন্দিরে আমি রোজ জল ঢালি। আমার রক্তে আছে। তাছাড়া ভারতবর্ষের সংস্কৃতি হচ্ছে মঠ মন্দির। গত বছর আমি দুর্গাপুরে ছিলাম, ইসকনের মন্দিরে গেছিলাম। আজ স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে গেলাম এই মন্দির। তাই সমালোচনা নিয়ে ভাবি না, কারন পশ্চিমবাংলায় সব কিছু নিয়েই সমালোচনা হয়। তবে দল কোনো সমালোচনা করেনি, কিছু কিছু লোক করেছে, তা নিয়ে কিছু যায় আসে না”।
এখন কথা হছে রাজ্যে দিন দিন কি দলগতভাবে ব্যাকফুটে যাচ্ছেন একুময়ের ডাকাবুকো বিজেপির এই নেতা, আর যার শুরুটা হয়েছিল দীঘায় জগন্নাথমন্দির উদ্বোধনে যোগ দেওয়ার পদক্ষেপ দিয়ে? গত ২৯ মে আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আর একপাশে দেখা যায় রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি সেই দিলীপ ঘোশকে, যিনি এই রাজ্যে বিজেপির বলতে গেলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, ১লা জুন কলকাতা সফরেও এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু সেই সভাতেও ব্রাত্য ছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য স্তরের সমস্ত নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এই প্রেক্ষিতে দিলীপবাবু বলেছিলেন, “আমি সাধারন কর্মী। প্রধানমন্ত্রীর পাশে নেতারা থাকবেন”। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে শুরু হয়েছে, দিলীপ ঘোষকে কি দল পুরোপুরি বাইরে রাখতে চাইছে?




