নাবালকদের রক্তদান-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত কিংশুক গ্রেফতার, তদন্তে নতুন মোড়
আমার কথা, ১৩ আগস্ট
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
নাবালক ছাত্রদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে তদন্তে বড় সাফল্য পেল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের অন্যতম মূল অভিযুক্ত কিংশুক মুখার্জিকে উড়িষ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে দুর্গাপুরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অভিযোগ, দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইস্পাতনগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন নাবালক ছাত্রকে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানো হয়। বিনিময়ে তাদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে প্রথমেই গ্রেফতার হয় স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তী। অভিযোগ, সে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নাবালকদের হাসপাতালে নিয়ে যেত। পরে তদন্তে উঠে আসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদব এবং মালদহের বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহর নাম। দু’জনকেই আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই কিংশুক মুখার্জির নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই সে গা-ঢাকা দেয়। অবশেষে উড়িষ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, নাবালকদের রক্তদান করানোর পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে কিংশুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কীভাবে নাবালকদের চিহ্নিত করা হত, কারা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেত, অর্থের লেনদেন কীভাবে চলত এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না।
এদিকে, দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশের তদন্ত সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। রাজনৈতিক রং না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই গুরুতর অপরাধে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার।”



