এবারের লড়াই ‘পান্ডবদের সাথে কৌরবদের’- লাউদোহা থেকে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি মমতার
আমার কথা, ২৫ মার্চ
সার্থক কুমার দে, লাউদোহা:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কার্যত ‘পাণ্ডব বনাম কৌরব’-এর লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহা ফুটবল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের—আমরা পাণ্ডব, বিজেপি কৌরব।”
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র, অধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার সংগ্রাম। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না, রাজনৈতিক দল বা সংবাদমাধ্যমকেও দেওয়া হচ্ছে না—এটা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।” যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঐক্যের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা আঙুলে মুষ্টি হয় না—পাঁচটা আঙুল একসঙ্গে হলেই শক্তি।” ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে রামনবমী উপলক্ষে কোনও উস্কানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে সহাবস্থানের বার্তা দেন।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, আসানসোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর—সবই তৃণমূল সরকারের আমলে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি জানান, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসুবিধা, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর আর্থিক সহায়তা এবং ছাত্রদের জন্য ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রমাণ। “লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চলবে, ভবিষ্যতে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবাও চালু করা হবে,” বলেন তিনি।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। গ্যাস ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “গ্যাস এখন রান্নাঘরে নয়, প্রচারের গ্যাস বেলুনে যাচ্ছে।”
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, “বিজেপির পার্টি অফিস থেকেই প্রশাসনিক বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” ভোট ও গণনার দিনে কোনও অনিয়ম হলে তা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, “অধিকার রক্ষায় পিছিয়ে পড়া যাবে না।”
এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার থাকাকালীন কাউকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে দেউচা-পাচামি প্রকল্পে প্রায় এক লক্ষ চাকরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শেষে আবেগঘন সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যদি যোদ্ধা হই, আপনারা সহযোদ্ধা। অন্যায় ও বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করে পাণ্ডবদের মতোই আবার জিতবে বাংলা।”
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আসানসোল উত্তরের প্রার্থী মলয় ঘটক, কুলটির অভিজিৎ ঘটক, জামুড়িয়ার হরেরাম সিং, রানীগঞ্জের কালোবরণ মণ্ডল-সহ জেলা নেতৃত্ব ।




