বনধে স্বাভাবিক খনি অঞ্চল, তবে পড়লো প্রভাব ব্যাংক, বীমা পরিবহন পরিষেবায়
আমার কথা, খনি অঞ্চল, ৯ জুলাইঃ
শ্রমিক সংগঠন গুলির ডাকা বুধবার বনধে স্বাভাবিক ছিল খনি অঞ্চল, প্রভাব পড়েনি জনজীবনে। আংশিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে ব্যাংক, বীমা, পরিবহন শিল্পে। সিপিআইএমের দাবি বনধ সফল হয়েছে মানুষের সমর্থনে। বাংলার মানুষ বনধ প্রত্যাখ্যান করেছে পাল্টা দাবি তৃণমূলের।
কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি শ্রমকোড আইন সংশোধন করে চারটি শ্রমকোড তৈরি করেছে। এই সংশোধন শ্রমিক বিরোধী, নতুন শ্রমকোড আইন বাতিলের দাবিতে সিটুসহ ১০ টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ঘোষণা করে। যথারীতি বনধের বিরোধিতা করে রাজ্যের তৃণমূল সরকার । ফলে বনধ ঘিরে গত কয়েকদিন চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল রাজ্যে। বুধবার অবশ্য বনধের দিন স্বাভাবিক চিত্র দেখা গেল কয়লা খনি অঞ্চলের অন্ডাল, পাণ্ডবেশ্বর দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে । এলাকায় জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। ইসিএলের বাঁকোলা, পাণ্ডবেশ্বর, ঝাঁঝরা, কেন্দা, কাজোরা এরিয়ার কয়লা খনিতে শ্রমিকদের উপস্থিতি ও উৎপাদনে প্রভাব পড়েনি বলে সংস্থা সূত্রে জানা যায়। অন্ডাল সাউথ বাজার, নর্থ বাজার, কাজোরা, লাউদোহা, পাণ্ডবেশ্বর বাজারে দোকানপাট খোলা ছিল। ক্রেতাদের ভিড় ছিলও অন্যান্য দিনের মতো । এছাড়াও সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এদিন খোলা ছিল। পঠন পাঠন হয়েছে স্বাভাবিক দিনের মতোই। পোস্ট অফিস, পঞ্চায়েত সহ সরকারি বেসরকারি সংস্থার অফিস খোলা ছিল। বনধের কোন প্রভাব এখানেও লক্ষ্য করা যায়নি।
শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা বনধে কিছুটা সারা লক্ষ্য করা গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বীমা ও পরিবহন শিল্পে । এলাকায় জীবন বীমা অফিসের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকেও এদিন কোন কাজ হয়নি । অফিস গেটে তালা লক্ষ্য করা গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন রাস্তায় বাস মিনিবাস কম চলেছে। অন্ডালের মিনিবাস মালিকদের পক্ষে শান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান স্বাভাবিক দিনে উখরা থেকে আসানসোল রানীগঞ্জ বেনাচিতি দুর্গাপুর রুটে ৪২টি মতো বাস চলাচল করে। এদিন ২৪ টি মতো বাস নেমেছিল রাস্তাতে। সকালের দিকে কিছু বাস আটকে দেওয়া হয়েছে বেনাচিতির প্রান্তিকা ও দুর্গাপুরে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের অন্ডালের ভাদুর মোড় সহ কয়েকটি রাস্তায় বনধ সমর্থককারীরা যানবাহন চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। তবে টোটো চলাচলের কারণে যাত্রীদের বিশেষ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়নি।
যদিও সিপিআইএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন বনধ সর্বাত্মক সফল হয়েছে। শ্রমিক সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বনধ সমর্থন করেছে। ২০১১ সালের পর এদিন বনধে অদ্ভুতপূর্ব সারা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে এই দিনের বনধ ব্যর্থ বলে দাবি করা হয় শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। অন্যান্য বারের মতো সিপিআইএমের প্ররোচনায় শ্রমিক সংগঠন গুলির ডাকা কর্মনাশা বনধ খনি অঞ্চলের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানানো হয়।



