গরু-কাণ্ডে জেলা তৃণমূল যুব সভাপতির হুশিয়ারি ঘিরে নয়া বিতর্ক
আমার কথা, দুর্গাপুর, ৩ আগস্টঃ
গরু ব্যবসায়ীদের মারধর কাণ্ডে জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি গর্জে উঠলেন। ফের একবার এমন ঘটনা ঘটালে তাদের হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে সমাজ মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন যুবনেতা। তার বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক।
গত ৩১ শে জুলাই বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া জেলার একটি হাট থেকে গরু কিনে দুর্গাপুরের জেমুয়া ফিরছিলেন কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী। দুর্গাপুর ব্যারেজের কাছে তাদের গরু ভর্তি গাড়িটি আটকায় বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ও তার সঙ্গীরা। গরু পাচার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তারা ওই ব্যবসায়ীদের বেধড়ক মারধর করে, কান ধরে উঠবস করানো হয়। যদিও ওই ব্যবসায়ীরা পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান তারা হাট থেকে বৈধভাবে গরু কিনে নিয়ে আসছিলেন। সমাজ মাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের ঝড় উঠে। আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্তরা ঠিক কাজ করেনি বলে সরব হয় অনেকে। ঐদিন সন্ধ্যাতে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। পরদিন দুইজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ । তবে মূল অভিযুক্ত বিজেপির যুবনেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ফেরার। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে জানাই পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে রবিবার সমাজ মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি পার্থ দেওয়াসী। তিনি সাফ বলেন এটা উত্তর প্রদেশ, বিহার নয় এটা পশ্চিমবাংলা। এখানে আইন নিজের হাতে তুলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার ফল ভালো হবে না । এরপরই তিনি বলেন বিজেপি আর একবার এরকম ঘটনা ঘটালে তারা চুপচাপ বসে থাকবেনা। আইন যারা মানবে না তাদের হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে যুবনেতা পার্থবাবু হুঁশিয়ারি দেন। সমাজ মাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে একটি ভিডিও (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আমার কথা) ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ছোটন চক্রবর্তী বলেন কয়লা, গরু, বালি পাচার কাণ্ডে তৃণমূল নেতারা জড়িত। বিজেপি কর্মীরা এর প্রতিবাদ করাই তৃণমূল হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদের রাস্তা থেকে তারা সরবে না বলে জানান ছোটন বাবু । সিপিআইএম নেতা পরেশ মণ্ডল বলেন তৃণমূল, বিজেপির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । একদল রাজ্যের অন্য দল কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা পরিকল্পিতভাবে এরকম ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটায়। এর পেছনে রয়েছে ভোট ভাগাভাগির সরল অংক। সত্যতা যাচাই না করে গরু ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্যে মারধর করার পাশাপাশি তৃণমূল যুব নেতার হুঁশিয়ারী কেউ সিপিএম সমর্থন করে না বলে জানান পরেশ বাবু।



