জমিদার পরিবারের হাতে শুরু, ঝুলন উৎসবে এখনো উখড়া গ্রামে বসে বড় মেলা
আমার কথা, অন্ডাল, ১ আগস্ট:
জমিদার পরিবারের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ঝুলন উৎসব। অতীতে বসতো বড় মেলা। পরিসর ছোট হলেও ঝুলনে এখনো উখরা গ্রামে মেলা বসে। শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এই মেলায় ফুটে ওঠে সম্প্রীতির ছবিও।
প্রতিবছর বাংলা শ্রাবণ মাসের একাদশীর দিন থেকে শুরু হয় ঝুলন উৎসব, মন্দিরে পূজা অর্চনা চলে পূর্ণিমা পর্যন্ত। ঝুলন উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বসে ছোট বড় মেলা। যার মধ্যে অন্যতম পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল ব্লকের উখড়া গ্রামের ঝুলন। এখানে ঝুলন উৎসবের সূচনা হয় স্থানীয় জমিদার পরিবারের হাত ধরে। বাংলা ১২৪৪ বঙ্গাব্দে উখড়া গ্রামে ঝুলন উৎসবের সূচনা করেন তৎকালীন জমিদার শম্ভুলাল সিং হান্ডা। জমিদার পরিবার সূত্রে জানা যায় পরিবারের পূর্বপুরুষ বক্তার লাল সিং হান্ডার মেয়ে বিষণ কুমারী দেবীর বিয়ে হয় বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজার সাথে। সেই সম্পর্কের সূত্রেই হান্ডা পরিবার উখরা সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার জমিদারির স্বত্ব পান। গ্রামের পুরনো হাট তলায় গড়ে ওঠে গোপীনাথ জিও মন্দির। সেই মন্দিরে জমিদার পরিবারের কুলো দেবতা অধিষ্ঠিত রয়েছেন। সে সময় বর্ধমান রাজবাড়িতে মানব ঝুলন হত। তা দেখেই গোপীনাথ জিউ মন্দিরে শম্ভুলাল সিংহ হন্ডা উখড়া গ্রামে ঝুলন মেলার সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে চট্টোপাধ্যায় ও রায়দের উদ্যোগে গোপাল বাড়ি এবং মহন্ত অস্তলে অবস্থিত নিম্বাক সম্পদের বৃন্দাবন জিউ মন্দিরও ঝুলন মেলা শুরু হয়। এই তিনটি মন্দিরের ঝুলনকে ঘিরে গ্রামে বসে মেলা। অতীতে মেলার পরিসর ছিল বড় । মেলা বসতো বাঁকোলা রোড, সার্কাস মাঠ, ফুটবল মাঠ সহ উখড়া হাইস্কুল পর্যন্ত বড় এলাকা জুড়ে। রাস্তার দুপাশে বসতি ও দোকানঘর গড়ে ওঠায় এখন মেলার পরিসর ছোট হয়েছে। এখন মূলত মেলা বসে সার্কাস মাঠ ও ফুটবল মাঠে। দীর্ঘদিন এই মেলা পরিচালিত হতো হান্ডে পরিবারের হাত ধরে। বর্তমানে গ্রাম পঞ্চায়েত এই মেলা পরিচালনা করে । সার্কাস ও ইলেকট্রিক নাগরদোলা সহ মনোরঞ্জনের হরেক পসরার পাশাপাশি ঝুলন মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বাউল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজন ছাড়াও মেলা দেখতে ছুটে আসে পার্শ্ববর্তী বীরভূম বাঁকুড়া জেলার মানুষও। মেলায় ভিড় জমান অন্য সম্প্রদায়ের মানুষজনও। কথাতে আছে ধর্ম নিজের নিজের উৎসব সবার। উখড়া গ্রামের ঝুলন মেলাতে সম্প্রীতির সেই ছবি ফুটে ওঠে।



