ভেসে গেল শিবপুর জয়দেব সংযোগকারী অস্থায়ী সেতু, বিপাকে দুই জেলার মানুষ
আমার কথা, কাঁকসা, ৮ জুলিয়াঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।অন্যদিকে ঝাড়খন্ড বিহারেও ভারী বৃষ্টির জেরে সমস্ত নদী গুলিতেও বেড়েছে জল।জল বাড়ে অজয় নদে।
নিম্নচাপের জেরে অজয় নদের জলস্রোত বেড়ে যাওয়ায় জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বালি মাটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সেতু।
আগেই প্রশাসন ও ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দুর্ঘটনাকে এড়াতে সম্পূর্ণরূপে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে বীরভূমের সাথে বর্ধমানের যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এবার জলের তোড়ে পুরোপুরি রাস্তাই ভেসে গেল।
বর্ধমান ও বীরভূমের কয়েক হাজার মানুষ রুটি রুজির তাগিদে দৈনন্দিন এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে। অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত নৌকা পরিষেবা শুরু হয় নি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিত্য যাত্রী থেকে স্কুল কলেজের পড়ুয়ারাও।
অন্যদিকে অজয় নদের উপর স্থায়ী সেতুর প্রায় ১০০ শতাংশ নির্মাণ হয়ে গেলেও তা এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয় নি। ব্রিজ কবে চালু হবে তা জানেন না এলাকাবাসী।ফলে এবছরও সারা বর্ষায় দুই জেলায় মানুষকে ভুগতে হবে বলে দাবি দুই জেলার মানুষদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় অস্থায়ী সেতু ভেসে যায়, আর যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত কোনো ভাবেই নৌকা পরিষেবা শুরু হয় নি। ফলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হোচ্ছে সকলকে।নতুন ব্রিজ তৈরি হলেও এখনো কাঁকসার দিকে বেশ কিছুটা কাজ বাকি। যার কারণে নতুন ব্রিজের উপর দিয়ে জরুরি পরিষেবা ছাড়া কিছুই পারাপার করতে দেওয়া হোচ্ছে না।যদি প্রশাসন অন্তত বাইক ও সাইকেল ও ছোট ছোট যানবাহন গুলিকে পারাপার করতে দিতো তবে এই বর্ষায় মানুষের কিছুটা হলেও সুরাহা হতো।
বর্তমানে নতুন ব্রিজের দুই পারে দুই জেলার বাস এসে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে।আর পায়ে হেঁটেই যাত্রীরা অজয় নদের উপর নির্মিত নতুন ব্রিজ দিয়ে হেঁটে পারাপার করে ফের বাস ধরে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।এই বিষয়ে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।অস্থায়ী সেতু অজয় নদের জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। সেটা তিনি জানেন।এখন নৌকায় যাতায়াত টা কেনো শুরু হয় নি সেই বিষয়ে বীরভূম জেলা প্রশাসনের সাথে তারা কথা বলবেন যাতে দ্রুত নৌকা পরিষেবা টা শুরু করা যায়। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প নতুন ব্রিজ।সেই ব্রিজের কাজ প্রায় শেষ। যতক্ষন না সেটি উদ্বোধন হোচ্ছে ততক্ষণ তো সেই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। এখন তার অনুমতি কে দেবে।অনুমতি না থাকার পরেই জোর করে নতুন ব্রিজ দিয়ে অনেকেই সাইকেল মোটর সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে গত কয়েকদিনে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।যেহেতু মানুষ এখন সমস্যায় পড়েছে।তাই এই বিষয়ে উর্ধতন আধিকারিকদের কাছে তিনি আবেদন জানাবেন যাতে এই বর্ষার সময় মানুষে কিছুটা সুরাহা হয়।



