কচুরিপানা দিয়ে পরিবেশ বান্ধব রাখী তৈরি করছেন গোষ্ঠীর মহিলারা
আমার কথা, পান্ডবেশ্বর, ৭ আগস্টঃ
বিশেষ প্রতিবেদনঃ সার্থক কুমার দে
আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা। তারপরেই রাখী বন্ধন উৎসব। এই পরিবিত্র দিনে কচুরিপানা দিয়ে পরিবেশবান্ধব রাখী তৈরি করছে পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের হরিপুর পঞ্চায়েত এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। এই শিল্পের সাথে যুক্ত মহিলাদের যেমন আয় বেড়েছে তেমনি দূষণমুক্ত হচ্ছে পরিবেশও।
দূষণে জেরবার পরিবেশ, প্রতিনিয়ত দূষণের ফলে বিপদ ছড়াচ্ছে বিশ্বে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন পরিবেশবিদরা। যে সকল জিনিস ও বস্তু থেকে দূষণ ছড়াই সেগুলি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জিনিস ব্যবহার করার উপর জোর দেওয়ার কথা ভাবছে সচেতন মানুষজন। এরকম চিন্তা ভাবনা থেকেই কচুরি পানা দিয়ে রাখি ব্যাগ সহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করছে পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের হরিপুর পঞ্চায়েতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। গোষ্ঠীর সদস্যরা জানান পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একটি সংস্থা আমাদের পনেরো দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল কচুরি পানা থেকে পরিবেশবান্ধব জিনিস করার বিষয়ে। প্রশিক্ষণ শেষে এখন আমরা নিজেরাই সে সকল জিনিস তৈরি করছি। সামনে রয়েছে রাখি বন্ধন উৎসব, তাই কচুরিপানা দিয়ে রাখি তৈরীর কাজ এখন বেশি করছি আমরা। অর্ডার মতো ৭০০ রাখি পাণ্ডবেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতি ও হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫০০ রাখি সরবরাহ করা হয়েছে। বিভিন্ন দোকান খোলা বাজারে ও রাখি বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তারা । গোষ্ঠীর সদস্য মন্দিরা সূত্রধর, আলপনা মন্ডলরা বলেন কচুরিপানা ছাড়াও রাখি তৈরি করতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় কাগজ, আঠা, চুমকি, রং, বার্নিশ সহ আরও অন্যান্য উপকরণ। ১০ টাকা ১৫ টাকা ও ২০ টাকা দামের সেইসব রাখি বিক্রি করা হচ্ছে।
হরিপুর পঞ্চায়েতের প্রধান আশা মন্ডল, উপপ্রধান গোপীনাথ নাগ-রা বলেন পরিবেশের কথা ভেবেই আমরা গোষ্টির মহিলাদের এই কাজে প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়েছি। মহিলারা ভালো কাজ করছে। তাদের উৎপাদিত রাখি, থলি নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে। এই সব জিনিস তৈরি করে গোষ্ঠীর মহিলাদের যেমন আয় বেড়েছে, উপকৃত হচ্ছে পরিবেশও।



