ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ইস্কোর ৫টি কুলিং টাওয়ার, দেখুন ভিডিও
আমার কথা, আসানসোল, ৬ মার্চঃ
বহু স্মৃতি বিজড়িত ইস্কো কারখানার কুলিং টাওয়ার ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল রবিবার। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে চোখের নিমেষে মাটিতে মিশে গেল ৫টি টাওয়ার।
দুই বাঙালি শিল্পপতির বহু স্বপ্ন আর পরিশ্রমের ফসল এই ইস্কো কারখানা। রাজেন্দ্রপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র বীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই আসানসোল পরিণত হয়েছিল ইস্পাত শিল্প হাবে। সেই সময়েই তৈরি হয়েছিল এই কুলিং টাওয়ারগুলি। ১৯২২ সাল থেকে এই টাওয়ারগুলি তৈরির কাজ শুরু হয়। ১৯৩৬ সালের মধ্যে পাঁচটি টাওয়ার তৈরি করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কুলিং টাওয়ার হলো একটি বিশেষ তাপ এক্সচেঞ্জার। এগুলি তাপ পরিবর্তনেও ব্যবহার করা হয়। জলের তাপমাত্রা কমাতে বায়ু এবং জলকে একে অন্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কে আনা হতো এই টাওয়ারে। এর পর প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। এখন আর সেই পদ্ধতিতে কাজ হয় না কারখানার অন্দরে। ফলে সেই অর্থে এই কুলিং টাওয়ারগুলি ‘অকেজো’-ই ছিল।প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে ইস্কো কারখানার আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। সেই কাজ শেষ হলে ইস্কোর বর্তমান উৎপাদন আড়াই মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে সাত মিলিয়ন করা হবে। আর এই নতুন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন প্রচুর জায়গার। সেই কারণেই এই কুলিং টাওয়ারগুলি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হলো ইস্কোর কুলিং টাওয়ারগুলি। কিন্তু তার জন্য রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল আগেই। সবটাই হলো নিখুঁত ভাবে। শনিবারই টাওয়ারগুলির গায়ে লাগানো হয়ে গিয়েছিল বিশেষ যন্ত্র। আসানসোলের অন্যতম পরিচিত ইস্পাত কারখানা (ইস্কো)-র ভেতরে থাকা কুলিং টাওয়ারগুলি ভাঙার কাজ শুরু হয় রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ। রবিবার দুপুর ১২টা ১২মিনিটে হঠাৎ বেজে উঠল সাইরেন, এর পরেই শুরু কাউন্টডাউন। ১০ থেকে উল্টো কাউন্ট ডাউন শুরু করে শূন্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল আসানসোল তবে এর নীচে বিশ্রাম নিতেন অনেকে। কেউ কেউ তা দূর থেকে দেখতে আসতেন। এখন সবটাই ইতিহাস। চোখ ভিজল অনেকের। চৈত্রের গরমে সেখানকার কর্মী, আসানসোলবাসীর মনে তখন বইছে, মন খারাপের ‘লু’।



