ভোট ব্যাংকের প্রশ্নে অযোধ্যা দর্শণে আস্থা ট্রেনেই কি আস্থা রাখছে বিজেপি?
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১১ মার্চ
আর দিন কয়েকের মধ্যেই ঘোষণা হবে লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ। এদিকে আসানসোল কিংবা বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়ছে বিজেপি জেলা নেতৃত্বের। দলীয় সূত্রে খবর, যে ভাবে দলীয় কোন্দল দিনে দিনে বাড়ছে তাতে কর্মীদের কাছে লড়াই কঠিন হচ্ছে। ফলে তাদের ভরসা এখন বর্ধমান থেকে দুর্গাপুর হয়ে ভায়া আসানসোল অযোধ্যাগামী আস্থা ট্রেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মতে বিজেপি সারা বছর মানুষের পাশে থাকে না৷ তারা শুধু ধর্মের নামে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করে অযোধ্যাগামী ট্রেন সেটাই প্রমাণ করে।
জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির সাংগঠনিক জেলার তরফে রাজ্যের কাছে যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের সময় পর্যন্ত বিজেপির সংগঠন অনেক মজবুত ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে ফের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে বিজেপি কর্মীদের উপরে অত্যাচার শুরু হয়। বিজেপি কর্মী খুন, তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে বাড়িছাড়া করা, পরিবারের উপর হামলা সহ একাধিক ঘটনা ঘটে।সেই সময় থেকেই দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। সেই সব কর্মীরা সকলেই প্রায় নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি প্রতিটা বুথকে মজবুত করার জন্য এবার অন্য পন্থা নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। কিভাবে সেটা করা হচ্ছে তা প্রকাশ্যে আনা হবে না।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী এস এস আলুয়ালিয়া জিতেছিলেন ২৪৩৯ ভোটে। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র আছে তার মধ্যে পাঁচটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ৭৪২৬৩ ভোটে। শুধুমাত্র দুর্গাপুর পূর্ব ও দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার উপরে ভর করেই বিজেপি প্রার্থী প্রায় আড়াই হাজার ভোটে জিতে যায়। অন্যদিকে ২০২২ সালে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা ৩লক্ষ ৩ হাজার ২০৯ ভোটের জিতে যান। ফলে সেই চিত্র মাথায় রেখে আসানসোল ও বর্ধমানকেন্দ্র গুলি থেকে কিভাবে জয় পাওয়া যায় সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে বিজেপি।
বিজেপির দলীয় সূত্রে খবর, যেহেতু রাম মন্দির নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা উন্মাদনা আছে তাই ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছিল অযোধ্যা যাওয়ার জন্য আস্থা স্পেশাল ট্রেন। বর্ধমান স্টেশন থেকে যাত্রীদের দেখভাল করার জন্য মাঝেমধ্যেই থাকছিলেন সাংসদ এস এস আলুয়ালিয়া, জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও দুর্গাপুর ও আসানসোল স্টেশনে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও আসানসোল জেলা সভাপতি বাপ্পাদিত্য চ্যাটার্জিকে। যেসব যাত্রী অযোধ্যায় যাচ্ছেন তাদের গলায় ঝোলানো থাকছে একটা করে ব্যাচ। যেটা টিকিট বলে গণ্য করা হচ্ছে।
রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘ বিজেপি মানুষের সঙ্গে থাকে না। তারা শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করে। মানুষ বুঝতে পেরে গেছে। তারা ভাবছে ধর্মের নামে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচনে লড়বে। মানুষ তাদের ভোট দেবে না।’
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই তাঁরা এখন এইসব উল্টোপাল্টা বকছে। মোদিজি বলেন সব কা সাথ, সবকা বিকাশ আর’ অযোধ্যা যাওয়া নিয়ে মানুষের আগ্রহ প্রবল।আর যেহেতু রামমন্দির আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান। তাই এর সঙ্গে ভোটের কোন সম্পর্ক নেই।
বিজেপির আসানসোল জেলা সভাপতি বাপ্পাদিত্য চ্যাটার্জি বলেন, মানুষের পাঁচশ বছরের পুরোনো স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোদিজি। বিজেপি কোনোদিনই ধর্মের রাজনীতি করে না। সন্দেশখালি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো মাথা ব্যাথা নেই, আর তৃণমূল খালি রামমন্দিরের ভূত দেখছে।



