নারী নির্যাতনের কথা ওদের মুখে মানায় না, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর কি অবস্থাঃ অভিষেক
আমার কথা, রানীগঞ্জ, ৩ মে:
ইডি সিবি আই এর কাছে মাথা নত করিনি, মেরুদন্ড সোজা রেখেছি। এটা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিবেকানন্দের বাংলা, বাংলাতে বিভাজনের রাজনীতি করতে দেব না, শুক্রবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজবাড়ী মাঠে ভোট প্রচারে এসে এই কথাই বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ১৩ই মে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। তৃণমূল দল এখানে প্রার্থী করেছে বিদায়ী সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে। দিন কয়েক আগেই প্রার্থীর সমর্থনে আসানসোল ও কুলটিতে জোড়া জনসভা করে গেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রার্থীর সমর্থনে রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজবাড়ী মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে হেলিকপ্টার করে সভাস্থলে আসেন অভিষেক। বক্তৃতায় বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা, বিজেপির মিথ্যাচার, বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে সরব হন তিনি। বলেন কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে আবাস যোজনা ও ১০০ দিন প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। বাংলার প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। রাজনৈতিক লড়াইয়ে না পেরে এরা টাকা আটকে বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে চাইছে। তৃণমূল সরকার বাংলার গরীব খেটে খাওয়া মানুষের পাশে আছে। তাই নিজস্ব তহবিল থেকে ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা গরিব মানুষকে মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী না থেকে আগামী দিনে আবাসন যোজনার টাকাও রাজ্য সরকার দেবে। বিজেপির তোলা রাজ্যে নারী নির্যাতন এর বিষয়েও সরব হন তিনি। বলেন নারী নির্যাতনের কথা বিজেপির মুখে মানায় না। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মনিপুরে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এইসব রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি সরকার। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ সিং এর বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা কুস্তিগীর নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। এবারের লোকসভা ভোটে অভিযুক্ত ব্রিজভূষণের পরিবর্তে তার ছেলেকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। বলেন কর্নাটকে কয়েক শো মহিলাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশে এসেছে বিজেপির জোট সঙ্গী জেডিএস দলের বিদায়ী সাংসদ এবারের লোকসভা ভোটের প্রার্থী প্রোজ্জ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী অভিযুক্তের হয়ে ভোট প্রচার করেছেন। সম্প্রতি রাজ্যের রাজভবনে চুক্তিভিত্তিক এক মহিলা কর্মী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন থানাতে। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন রাজভবন ও নিরাপদ নয় মহিলাদের জন্য।
এরপরই অভিষেক সরব হন ইডি সিবিআই সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলির বিরুদ্ধে। বলেন ইডি সিবিআই লেলিয়ে আমাদেরকে জব্দ করা যাবে না। আমরা ভয় পেয়ে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করিনি। মেরুদণ্ড সোজা রেখেছি, আগামী দিনেও তা সোজা থাকবে। এর পর তিনি বলেন বিজেপি এই রাজ্যে বৈষম্যের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। বলেন লক্ষ্য করবেন ভোট প্রচারে আসা বিজেপি নেতাদের কথার ধরন তারা বাঙ্গালীদের দেখে বলছে এরা রোহিঙ্গা, মুসলিমদের বলছে এরা পাকিস্তানি, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষকে বলছে এরা খালিস্থানি। বিভাজনের জন্য এরা এনআরসি সিএএ আইন এনেছে। পশ্চিমবাংলায় আমরা এই আইন লাগু করতে দেব না। কারণ এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, স্বামী বিবেকানন্দের বাংলা । এখানে বিভাজনের কোন জায়গা নেই। বক্তৃতার শেষ অংশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন পশ্চিমবাংলায় বেশি আসন পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে বাস্তবায়িত হবে না। ৪-ই জুন ভোটের ফল প্রকাশের দিন ব্যালট বক্স খোলা শুরু হলে বিজেপি নেতারা চোখে সর্ষের ফুল দেখবেন বলে মন্তব্য করেন অভিষেক। দলের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহার হাত উপরে তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন উপনির্বাচনে আপনারা ৩ লাখের বেশি ভোটে জিতিয়ে ছিলেন। এবার শপথ নিন সাড়ে তিন লাখের বেশি ভোটে জেতাবেন।



