প্রচার পর্ব শেষে আসানসোল কেন্দ্রে এগিয়ে তৃণমূল, লড়াইয়ে রইল বিজেপি
আমার কথা, আসানসোল, ১১ মে:
আসানসোল কেন্দ্র:- ১৩-ই মে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। লড়াই হবে তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিনহার সাথে বিজেপির সুরেন্দ্র সিংহ আলুওয়ালিয়ার। প্রচার পর্ব শেষে এই কেন্দ্রে লড়াইয়ে আছে বিজেপি, তবে প্রচারে এগিয়ে রইল তৃণমূল।
আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র একসময় বামেদের অপরাজেয় ঘাঁটি ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পর ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রটি হাতছাড়া হয় বামেদের। জিতে এই কেন্দ্রে প্রথমবার পদ্মফুল ফোটান বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়। ২০১৯ সালেও জেতেন তিনি। ২০২২ এ সাংসদ পথ থেকেই ইস্তফা দিয়ে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল কে রেকর্ড ভোটে পরাজিত করে জয় লাভ করেন তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিনহা। এবারের লোকসভা ভোটেও তৃণমূল আসানসোল কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে বিদায়ী সাংসদকে। প্রতিপক্ষ পদ্মফুল প্রার্থী সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়া। টানা একমাস এলাকায় প্রচার করছেন যুযুধান দুই প্রার্থী। প্রচার শেষে বিজেপি প্রার্থীর থেকে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। প্রচার কৌশল ও মজবুত সংগঠনের কারণেই এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে মত তাদের। যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ পদ্মফুল শিবির। দুই প্রার্থী সাংসদ হিসেবে তাদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছেন। বিজেপি প্রার্থী সুরেন্দ্র সিং আলুওয়ালিয়ার দাবী বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ থাকাকালীন তিনি পাঁচ বছরে ১৭ কোটি টাকা খরচ করেছেন। চিকিৎসার জন্য ১২০ জনকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা সাহায্য করা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহার দাবি মাত্র দু বছর সময় কালে তিনি খরচ করেছেন ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। চিকিৎসায় সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন ১২২ জন এর মধ্যে ৬৮ জনকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। বাকি ৪৯ জনের চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তৃণমূল এর জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন পাঁচ বছর বনাম দু’বছরের কার্যকালে শত্রুঘ্ন সিনহা অনেক বেশি কাজ করেছেন বিজেপি প্রার্থীর থেকে। এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি বাপ্পা চ্যাটার্জি বলেন খাতায়-কলমে বহু কাজের ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে বাস্তবে অনেক কাজের কোন অস্তিত্ব নেই।
খাতায় কলমে উন্নয়ন, খরচে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি প্রচারও বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল প্রার্থী। দেওয়াল লিখন, হোডিং, ফ্লাক্সে প্রচারের পাশাপাশি তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে এবার প্রচারে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় মিটিং ঘরে ঘরে প্রচারকে। বিজেপির প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে রোড শো, পদযাত্রা ও স্ট্রিট কর্নার। শত্রুঘ্ন সিনহার সমর্থনে কুলটি ও আসানসোলে জনসভা করে গেছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রানীগঞ্জে জনসভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো ও করেছেন অভিষেক। উল্টোদিকে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে অমিত শাহ এর রোড শো ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ছাড়া দলের কোন বড় মাপের মুখকে প্রচারে আসতে দেখা যায়নি।
আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ফ্যাক্টর হিন্দি ভাষী ভোটার। হিন্দি ভাষীদের বড় অংশ বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার পদ্মফুল প্রতীকে হিন্দিভাষী কাউকে প্রার্থী না করায় হিন্দি ভাষী ভোট ধরে রাখা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে পদ্মফুল শিবির। অপরদিকে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা, তিনি নিজে হিন্দিভাষী তাই হিন্দিভাষী ভোটারদের একটা অংশ এবার তৃণমূলের পক্ষে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দাবী করেন উপনির্বাচনের থেকেও এবার বেশি মার্জিনে জিতবে তৃণমূল। বিজেপির জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন ২০১৪, ২০১৯ এর মত ২০২৪ ও জিতবো আমরা। যুযুধান দুই পক্ষের দাবি, পাল্টা দাবি তবে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, কে হাসবে, কে করবে কিস্তিমাত তা জানা যাবে ৪-ই জুন ফল প্রকাশের পরই।



