“জিতেনের মেয়ের বিয়েতে যাবো না”-সাফ মানা নরেনের
আমার কথা, মুনমুন দত্ত, আসানসোল, ১ ডিসেম্বরঃ
“জিতেনের মেয়ের বিয়েতে যাবো না”, সাফ জানিয়ে দিলেন পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। যে এক সময় দলের পিঠে ছুরি মেরেছে, তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করছি না বলে জানালেন পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি নরেন চক্রবর্তী।
এক সময়ের পান্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক তথা আসানসোল পুরসভার প্রাক্তন মেয়র বর্তমানে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির এক মাত্র মেয়ের বিবাহের দিন স্থির হয়েছে ১লা ডিসেম্বর । আমন্ত্রিতদের লম্বা তালিকা। সেই তালিকায় একদিকে যেমন বিজেপির ছোট বড় নেতার নাম রয়েছে তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসেরও অনেক নেতৃত্বও রয়েছে তালিকায়। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জিতেন্দ্র তিওয়ারির এক সময়ের সব থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকেও। এক সময় পান্ডবেশ্বরে নরেন্দ্রনাথ ও জিতেন্দ্রও মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের চোরা স্রোত বইতো। যার বহিঃপ্রকাশ হয় যখন ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে আসানসোলের পুরপ্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দেন জিতেন সাথে তৃণমূলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করেন তিনি। ঘটনার দিন দুপুরে পান্ডবেশ্বরে একটি ‘উৎসব মিছিল’ বের হয়ে নরেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে। সেই মিছিল থেকেই পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ। বলে ছিলেন, “যদি বাপের ব্যাটা হোস তাহলে পাণ্ডবেশ্বরে পা দিয়ে দেখা, ঠ্যাং ভেঙে দেব।” মীরজাফর বলেও জিতেন্দ্রকে কটাক্ষ করে ছিলেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে বিধান্সভা নির্বাচনে ওই পান্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রসম্মুখ সমরে নেমেছিলেন জিতেন্দ্র ও নরেন্দ্র। একজন বিজেপির হয়ে ও অপরজন তৃণমূলের হয়ে। জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে পরাজিত করে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এই অবস্থা থেকে গত তিন বছরে জল গড়িয়েছে অনেকটা। সময়ে আপন খেয়ালে বয়ে গেলেও আজও কোথাও যে শত্রুতার শক্ত দেওয়াল রয়ে গেছে তা বহিঃপ্রকাশ ঘটল পান্ডবেশ্বরের বিধায়কের কথাতে। তিনি পরিষ্কার বলেন, “ওনার মেয়ের বিয়ে, আমি তাঁর নতুন জীবনের জন্তিয শুভেচ্নিছা ও শুভকাওমা জানাছি। তবে যেভাবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বা দলের পিঠে ছুরি মেরেছেন, সেখান থেকে ওনার মেয়ের বিয়েতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। শুধু আমি কেন, তৃণমূলের কোনো নেতা মন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন না।



