নার্সিং পড়ুয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল প্রেমিক, তাহলে কি খুন করা হয়েছে সুপ্রিয়াকে?
আমার কথা, পান্ডবেশ্বর, ৪ মার্চ:
২৮ শে ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কাঁকসা থানার মলানদিঘির একটি বেসরকারি হাসপাতালের হোস্টেল থেকে উদ্ধার হয় নার্সিং পড়ুয়া সুপ্রিয়া কোটালের (২১) মৃতদেহ। মৃত ছাত্রীর বাবা পাণ্ডবেশ্বরের উপর পাড়ার বাসিন্দা মোহিত কোটাল জানান ঐদিন দুপুরে হোস্টেল থেকে ফোন করে জানানো হয় মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি মেয়ের মৃতদেহ। মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয় আমাদের। হোস্টেলের অন্য আবাসিকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি ওই দিন দুপুরে খাবার সময় মেয়ের রুমের দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে উত্তর না পাওয়ায় তারা বিষয়টি হোস্টেল ইনচার্জ কে জানান। দরজা খুলে তারা দেখেন খাটের উপর মেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে জানান। সুপ্রিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ জানায়। মৃত পড়ুয়ার আত্মীয় (জেঠু) কীর্তন কোটাল বলেন আত্মহত্যা করলে দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হতো। ফ্যানের মধ্যে একটি ওড়না জড়ানো থাকলেও দেহটি উদ্ধার হয়েছে খাটের মধ্যে। তাছাড়া ওই ঘরে ঢুকে আমরা ডেটলের তীব্র গন্ধ পাই। মৃতদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেন কীর্তন বাবু। তাই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ রয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত সুপ্রিয়ার বাবা মোহিত বাবু বলেন পাণ্ডবেশ্বর সিনেমা হল এলাকার বাসিন্দা এক যুবকের সাথে দীর্ঘদিন মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই যুবক ও তার মা কিছুদিন আগে ফোন করে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। তাই মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে ওই যুবক ও তার মায়ের ভূমিকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মোহিত বাবু। ২- রা মার্চ কাঁকসা থানাতে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেন তিনি। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কাঁকসা) সুমন কুমার জসওয়াল মঙ্গলবার বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।



