ফের জমি কেলেঙ্কারি, থানায় তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি কে হেনস্থা
আমার কথা, অন্ডাল, ২ মেঃ
জমির বৈধ মালিকরা নিজেদের জমিতে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে গেলে বাঁধে গন্ডগোল। বিষয়টি নিয়ে থানায় ডেকে তৃণমূলের সহ-সভাপতি কে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে থানার বাইরে ধর্নায় বসেন সহ-সভাপতি সহ তার অনুগামীরা। অন্ডাল থানার কাজোড়া গ্রামের ঘটনা।
সাম্প্রতিককালে অন্ডাল থানার কাজোড়া গ্রামে জমি কেনাবেচা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। জাল নথি বানিয়ে একজনের জমি অন্যজনকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানার পর একাধিক জমির মালিক বিএলআরও এবং অন্ডাল থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অবৈধ জমি কারবারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে “জমি রক্ষা কমিটি”। নিজেদের জমি রক্ষায় আন্দোলনে সামিল হয়েছেন কাজোড়ি গ্রামের অনেকেই। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে শুরু হয় উত্তেজনা। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে এদিন কাজোড়া মৌজায় একটি জমির উপর নির্মাণ কাজ চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জমিটির বৈধ মালিকরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। অন্যপক্ষ ঘটনাস্থলে দাবি করে জমিটি তারা কিনে নিয়েছে, বৈধ কাগজ রয়েছে তাদের কাছে। দুপক্ষের বচসা চলাকালীন ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্ডাল থানার পুলিশ। সমস্যার সমাধানের জন্য দুপক্ষকে থানায় যেতে বলে পুলিশ। দুপক্ষ থানায় গেলে সেখানে এক পুলিশ আধিকারিক তৃণমূলের ব্লক সহসভাপতি মলয় চক্রবর্তীকে থানায় ঢোকানোর আদেশ দেন তার এক অধঃস্তন কর্মীকে। আদেশ পেয়ে ওই পুলিশ কর্মী সহ-সভাপতি কে থানায় ঢোকালে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানা চত্বরে জড়ো হয় মলয় চক্রবর্তীর অনুগামী ও গ্রামবাসীদের একাংশ। কিছুক্ষণ পর অবশ্য মলয় বাবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মলয় বাবু হেনস্তার অভিযোগে সরব হন। প্রতিবাদে অনুগামীদের সাথে ধর্নায় বসে পড়েন থানা চত্বরে । এতে উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে শুভম চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি জানান কাজোড়া মৌজায় তাদের একটি শরিকি দেবত্ব সম্পত্তি রয়েছে। এটি আগে ছিল দুর্গাদাসী দেবী পান্ডার নামে। দুর্গাদাসী দেবীর মৃত্যুর পর বর্তমানে এই জমিটির উত্তরাধিকারি তারা । গত ১৬/১১/২০২৪ তারিখে নজরে আসে তাদের জমিটি অন্য ব্যাক্তিদের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে ।শুভম বাবু জানান আজ লক্ষ্য করি আমাদের জমিটিতে অন্য ব্যক্তিরা নির্মাণ কাজ করছে, কাজ বন্ধ রাখার কথা বললে তারা দাবি করে এই জমিটির নাকি তারা কিনে নিয়েছে। নথি জাল করে জমি মাফিয়ারা এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন শুভম বাবু। অন্যদিকে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কালোবরন মন্ডল বলেন মলয় চক্রবর্তী দলের ব্লক সহ-সভাপতি তাকে হেনস্তা করা উচিত কাজ হয়নি। আমরা এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।




