পাকিস্তানে বন্দি বাংলার জওয়ানের দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়িতেও উৎকণ্ঠা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ৮ মেঃ
পাক-ভারত সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে। কাশ্মীরের বৈসরণ উপত্যকায় নিরীহ পর্যটকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। এরপর থেকেই তেঁতে রয়েছে ভারতবাসী। এই খুনের বদলা চাই বলেও দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। ঘটনার পনেরো দিনের মাথায় ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি ডেরাগুলিতে হামলা চালানো হয়। এই যখন পরিস্থিতি, তারই মাঝে পাকিস্তানের হাতে বন্দি রয়েছেন এক বাংলার জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ। এখন ভারত -পাক দ্বন্দ্বের মাঝে পরে ক্রমশই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে পূর্ণমের বাড়ির ফেরার সম্ভাবনা। পূর্ণমের পরিবারের পাশাপাশি একই উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন জওয়ানের দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজন।
গত ২৩ তারিখ ফিরোজপুর বর্ডারে ডিউটি করার সময় পাক রেঞ্জার্সের হাতে বন্দি হন ভারতীয় বিএসএফের জওয়ান পুর্ণম কুমার সাউ। তারপর থেকেই রিষড়ার বাড়িতে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ। জওয়ানের স্ত্রী রজনী অন্তঃসত্ত্বা। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা ও সাত বছরের সন্তান রয়েছে। সব নিয়ে পরিবারে একটা অস্থিরতা কাজ করছিল। তাই স্বামীর খোঁজ নিতে তাঁর কর্মস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্ত্রী। তবে সেখানে বিএসএফ আধিকারিক এবং ২৪ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তারা সেই উৎকণ্ঠা ও আশ্বাস নিয়েই বাড়ি ফিরে আসেন। প্রায় ১০ দিন হতে চলল পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হাতে বন্দি রয়েছেন ভারতীয় এই বিএসএফ জওয়ান। কবে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে বিএসএফের পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি। তবে জওয়ানের পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বারবার ফ্ল্যাগ মিটিং হচ্ছে। কথা চলছে পাকিস্থানের সঙ্গে। মুক্তি পাবেই তবে কবে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে একই উৎকণ্ঠা জওয়ানের স্ত্রীর পরিবারেও। দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর ৪/১৭ ট্রাঙ্ক রোডে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় থমথমে পরিবেশ। জওয়ানের স্ত্রীর বৌদি রানী গুপ্তা জানান, “ওকে ছেড়ে দেওয়া হবে শুনেছিলাম। তাতে কিছুটা হলেও আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এই অপারেশন সিঁদুরের পর এখনও আমাদের জামাইকে ছাড়া হল না। কোনো খবরও আসছে না। তাই খুব অস্থির লাগছে। আমরা চাইছি ঘরে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক”।




