বদ্রিনাথে উদ্ধার দুর্গাপুরের প্রীতমের ঝুলন্ত দেহ, মৃত্যুর পেছনে রহস্য কি?
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৪ মেঃ
বদ্রিনাথের দুয়ার খুলতেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বদ্রীনাথের কাছে যোশিমঠের কাছে রহস্যজনক ভাবে উদ্ধার হল এক তরতাজা যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ। গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় দুর্গাপুরের বাসিন্দা প্রীতম মজুমদারের দেহ।
দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বি-জোনের ১৭/৩৭ এডিসন রোডে দাদু দিলীপ দাসের কাছে থেকে বড় হয়েছে প্রীতম মজুমদার(২৮)। দাদু দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। প্রীতমের বাবা প্রবীর মজুমদার একজন প্রাক্তন বায়ু সেনাকর্মী। কিন্তু বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর প্রীতমের আরো দুই ভাই বোনকে নিয়ে প্রথমে দাদু দিদার কাছে থাকতে শুরু করেন প্রীতমের মা। প্রীতমের মা পূর্ণিমা মজুমদার এনআইটিতে একটি ঠিকা সংস্থায় কাজ করেন। বর্তমানে পূর্ণিমাদেবী প্রীতমের দুই ভাই বোনকে নিয়ে বেনাচিতির গুরুদুয়ারাতে বসবাস করেন। প্রীতম সিটিসেন্টারে একটি শেয়ার ট্রেডিং সংস্থাতে কাজ করছিল। কিন্তু সেই কাজ তাঁর পছন্দ ছিল না।
প্রীতমের দাদু দিলীপবাবু জানান, গত ৪ মে কলকাতায় একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যায় তাঁর নাতি। ১১ মে নাতির সাথে শেষ কথা তাঁদের। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় সে কোথায় আছে, তখনও প্রীতম জানায় সে কলকাতাতেই আছে। এরপর মঙ্গলবার উত্তরাখন্ড পুলিশের কাছ থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসে। জানানো হয় জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে একটি পাইন গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মেলে পশ্চিমবঙ্গের প্রীতমের দেহ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তার পোশাক, কাগজপত্র এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এই সব জিনিস ছিল একটি ব্যাগে। প্রাপ্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে , মৃত ব্যক্তির নাম প্রীতম মজুমদার। তিনি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আত্মহত্যা করেছে প্রীতম। প্রীতমের দিদার একটাই প্রশ্ন, আমাদের নাতি যদি আত্মহত্যাই করবে তাহলে এত দূরে গিয়ে কেন করলো?
এডিসন রোডের বাসিন্দা তথা সমাজসেবক দেবাশিষ বোস জানান, “প্রীতম খুব ভাল ছেলে ছিল। আধ্যাত্মিক দিকেই বেশি মন ছিল। পুজো আর্চাতেই বেশি সময় কাটাতো ওর”।
প্রীতমের শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু সেনগুপ্ত জানান, “প্রীতম পড়াশুনায় খুবই ভাল ছিল। আর্থিক অনটনের মধ্যে একটা সময় গেছিল ওদের দুর্গাপুরের সিএমইআরআই এর সেন্ট্রাল স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ইকনমিকস নিয়ে দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজে পড়াশুনা করে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় পড়াশুনায় ভাল হয়েও সেভাবে ভাল কোনো চাকরী পাচ্ছিল না সে। আমার মনে হতো কোনো কিছু বিষয় নিয়ে প্রীতম মানসিক অবসাদে ভুগছিল”।
প্রশ্ন তাহলে কি এই অবসাদের কারনে আত্মহত্যা করল প্রীতম, নাকি এই মৃত্যুর পেছনে রয়েছে কোনো ষড়যন্ত্র? সব দিকটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রীতমের মামা অতনু দাস কলকাতায় থাকেন। ঘটনার ধাক্কা এতটাই বেশি দাদু দিদার কাছে যে তাঁরা আপাতত দুর্গাপুর ছেড়ে কলকাতায় ছেলে অতনুর কাছে চলে যেতে চাইছেন। প্রীতমের মরদেহ দুর্গাপুরে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



