দুর্ঘটনায় পা হারায় ছোট্ট আকাশ, ক্ষতিপূরণ পেলো ৪১ লক্ষ টাকা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৩ মেঃ
দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত রাস্তার ধারে ওয়ারিয়া কোলডিপু এলাকায় ছাড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর্থিক ভাবে দুর্বল বিভিন্ন পেশার দিনমজুর পরিবারের লোকজন, তাঁদের মধ্যে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন বাসমতি দেবী ও তাঁর সন্তান আকাশ চৌধুরী। আকাশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখত বাসমাতি আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার এক পরিপূর্ন আকাশ।
কিন্তু বাদ সাধলো নিয়তি, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাস্তার ধারে খেলার সময় ছোট্ট আকাশ দ্রুত ধেয়ে আসা ডাম্পারের ধাক্কায় আহত হয় আকাশ। এক বুক শঙ্কা নিয়ে তাঁকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু শেষমেষ প্রাণে বাঁচলেও তার ডান পা উরুর উপর থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয়।
এক সময় যে সন্তানকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন বাসমতি দেবী, তা মুহূর্তে ম্লান হয়ে যায়।
ঘাতক ডাম্পারের চালকের বীমা সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের হয় ২০১৬ সালে দুর্গাপুর মোটর এক্সিডেন্ট ক্লেইম ট্রাইবুনালে।
দীর্ঘ ১১বছর লড়াই চলার পর ট্রাইবুনালের মহামান্য বিচারক মহ রফিক আলম (Addl District Cum Fast Track Court)
বাসমতি দেবীর ছেলে আকাশ চৌধুরীর নাম বরাবর ২৬,৫৫,৮০০/- তার সাথে ৬, শতাংশ সুদ প্রতি বছর জুড়ে মোট প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
বাসমতি দেবীর আইনজীবি বিশিষ্ট আইনজীবী আয়ুব অনসারী বলেন প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে কাজ করার আনন্দ একটা আলাদা অনুভূতি জাগে।
আকাশের পায়ের মূল্য অর্থের বিচারে মাপা যায়না, কিন্তু আগামী দিন গুলি অতিবাহিত করার ক্ষেত্রে তার ও তার পরিবারচকে সাহায্য করবে।
আকাশের সার্বিক সুস্থতা কামনা করি।
বর্তমানে আকাশ ডিভিসি ডিটিপিএস হিন্দি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। পাশাপাশি সে দিনমজুরের কাজ করে মাকে সংসার চালাতে সাহায্য করে।



