অবশেষে উদ্ধার তলিয়ে যাওয়া তিন বন্ধুরই নিথর দেহ
আমার কথা, বুদবুদ, ৫ জুনঃ
দামোদর নদে তলিয়ে যাওয়া ৩জনের দেহ উদ্ধার করলো বিপর্যয় মোকাবিলার দল। প্রথমে এক জনের দেহ উদ্ধার হয় বুধবার রাতে। দ্বিতীয় জনের দেহ উদ্ধার হয় বৃহস্পতিবার সকালে। তৃতীয় জনের দেহ উদ্ধার হয় এদিন দুপুরে। উদ্ধার হওয়া দুই জনের দেহ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত হলেও তৃতীয় জনের দেহ শুক্রবার ময়নাতদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার দুপুরে ৭জন বন্ধু মিলে বুদবুদের রণডিহা ড্যামে দামোদর নদে স্নান করতে নামে।এর পরেই ৩জন দামোদর নদের জলে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বুদবুদ থানার পুলিশ পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে আসে বিপর্যয় মোকাবিলার দল। বুধবার রাতে উদ্ধার হয় জিতু অধিকারীর দেহ। এর পর বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হয় অভিজিৎ গাইনের দেহ। দুপুরে সুরজিৎ বিশ্বাসের দেহ উদ্ধার হয়।৩জনেরই বাড়ি কাঁকসার ২নম্বর কলোনি এলাকায়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই এলাকায়।
উল্লেখ্য:- প্রতি বছরই দামোদর নদের বাঁধে অনেকেই তলিয়ে যায়।বারবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সচেতন করা হলেও হুঁশ ফেরে না কারোরই। অন্যদিকে জলে না নামার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা থাকলেও তা তরুণ প্রজন্ম কিছুতেই মানতে চায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পানাগড়,বুদবুদ,ও গলসি এলাকার বসবাসকারী সেলফি তোলার নেশায় বুঁদ তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দের স্থান হলো এই দামোদরের বাঁধ। বাড়ির কাছে হওয়ার কারণেই সকাল সন্ধ্যায় প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে কম বয়সী ছেলে মেয়েদের ভিড় এখানে লেগেই থাকে। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলে সেলফি তোলা। আর তার ফলেই অসাবধানতার কারণেই ঘটে যায় একের পর এক ঘটনা। যদিও দুর্ঘটনা রুখতে বারবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা মানে না এই তরুণ প্রজন্মের যুবক যুবতীরা।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ অনেক তরুণ যুবক রা নদের পাড়ে বসে মদ্যপান করে। তার পরে জলে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়েই ঘটে দুর্ঘটনা।
এই বিষয়ে স্থানীয়রাও বারণ করে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
বুধবারও ঠিক এমনই ঘটনা ঘটে দামোদর নদের উপর রণডিহা ড্যামে। ঘটনার দিন স্থানীয়রা বারণ করলেও কেউ তাদের বারণ শোনে নি বলে অভিযোগ। এর পরেই ঘটে দুর্ঘটনা।পরে যারা নদের পাড়ে উঠে আসে তাদের মারধর শুরু করে স্থানীয়রা।মারধরের জেরে একজন গুরুতর আহত হয়।তার পায়ে চোট লাগায় তাকে প্রথমে পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হলে সেখানে থেকে তাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়।
কাঁকসার কাঁকসার দু নম্বর কলোনির যে তিন জন জলে ডুবে যায় তার মধ্যে ছিলো একজন কলেজ পড়ুয়া।বাকিরা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছিল।একই এলাকার ৩জনের মৃত্যতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।



