বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও অযত্নে পড়ে রইল আগাছা ভর্তি ফ্রুট পার্ক
আমার কথা, পান্ডবেশ্বর, ৫ জুন:
রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবে আগাছায় ঢেকেছে ফ্রুট পার্ক। নষ্ট হচ্ছে গাছ, বেড়েছে সাপের উপদ্রব। পার্কটি সংস্কার করা হোক, আগাছা মুক্ত করে বাড়ানো হোক পার্কের সৌন্দর্য চাইছেন স্থানীয়রা।
পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের কুমারডিহি গ্রামের বাস স্ট্যান্ড থেকে শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি যাওয়ার রাস্তার ডান পাশে রয়েছে ইসিএলের একটি পাম্প হাউস। এই পাম্প হাউস থেকে এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। সেখানেই রয়েছে ফ্রুট (ফল) পার্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এখন যেখানে পাম্প হাউস ও ফ্রুট পার্ক রয়েছে আগে সেখানে ছিল খনি সংস্থা ইসিএলের একটি বালি বাঙ্কার। পরে সেই বাঙ্কারের প্রয়োজন শেষ হলে সেটি পরিতক্ত ঘোষণা করা হয়। সাত আট বছর আগে পরিত্যক্ত ওই বালি বাংকারের জায়গাতে পাম্প হাউস তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে পাম্প হাউস ঘিরে ইসিএল এর উদ্যোগে তৈরি হয় একটি ফ্রুট পার্ক বা ফলের বাগান। লাগানো হয় আম,জাম, কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ। প্রথম দিকে ঠিকঠাক থাকলেও পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্ক টি নষ্ট হতে বসেছে। আগাছাতে ভরেছে গোটা পার্ক চত্বর। অনেক গাছ ভেঙ্গে পড়েছে অথবা নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ফ্রুট পার্কের এমন হতশ্রী চেহারা হয়েছে। পার্ক চত্বরে যে পাম্প হাউস রয়েছে সেই পাম্প হাউসের কর্মী অভিষেক চ্যাটার্জি বলেন অপরিষ্কার আর আগাছার কারণে সেখানে প্রায়ই সাপ দেখা যায়। সাপের উপদ্রবে কাজ করতে ভয় হয় বলে জানান তিনি।ইসিএলের বাঁকোলা এরিয়ার তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন কেকেএসসির সভাপতি তথা তিলাবনী কোলিয়ারির শাখা সম্পাদক বলাই ব্যানার্জি বলেন পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন, কোলিয়ারির আধিকারিকের কাছে পার্কের সংস্কারের আর্জি জানাবো বলে জানান বলাই বাবু। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের সভাপতি কিরিটি মুখোপাধ্যায় বলেন শুধু গাছ লাগালে হবে না, গাছের পরিচর্যা, দেখভাল করতে হবে। উদ্যানটি নতুনভাবে সেজে উঠুক এই ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে খনি কর্তৃপক্ষকে। বিষয়টি নিয়ে কুমারডিহি কোলিয়ারির এজেন্ট মধুসূদন সিংহের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান। তাই তার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৫-ই জুন ঘটা করে পালন করা হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস । লাগানো হয় গাছ । কিন্তু গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে যে উৎসাহ দেখা যায় গাছ বাঁচানোর ক্ষেত্রে সেই উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় না অনেকাংশে । যার ফলে শৈশবেই মৃত্যু ঘটে অনেক গাছের । দেখ ভালের অভাবে মারা যায় বড় গাছেও । কুমারডিহির ফ্রুট পার্ক তারই উদাহরণ বলে মত স্থানীয়দের একাংশের ।



