দীর্ঘ টানাপোড়ের পর অবশেষে জ্বলে উঠলো দার্জিলিং মোড়ে পথবাতি
আমার কথা, কাঁকসা, ৭ জুনঃ
খবরে জেরে অবশেষে জ্বলে উঠলো পথ বাতি। শনিবার রাত আটটা নাগাদ সুইচ অন করে পথবাতি জালালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত, ছিলেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, কাঁকসার বিডিও পর্না দে, জেলা পরিষদের দুই সদস্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমীর বিশ্বাস, কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য, কাকসার এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল সহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত:-গত ৮ মাস আগে এলাকাবাসীর সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে পানাগড় বাইপাস সংলগ্ন কিং স্টার হোটেল থেকে পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় পর্যন্ত পুরাতন জাতীয় সড়কের ওপর পথবাতি লাগানো হয়েছিল। সেই পথপাতি ৮ মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানো হলেও তা বন্ধই থাকে। বিদ্যুতের বিল কে দেবে এই নিয়ে টানা পড়েন শুরু হয়। পরে ব্লক প্রশাসনের সাথে পানাগড় বণিক মহলের বৈঠক করার পর সিদ্ধান্ত হয়। একটি কমিটি গঠন করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুতের বিল হিসাবে অর্থ সংগ্রহ করা হবে। সেই মতো প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা মাঝপথে থমকে যায়। ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল বিদ্যুৎ সংযোগ করার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসাবে যে পরিমাণ অর্থ লাগবে, সেই অর্থ জমা দেওয়ার জন্য তারা আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই অর্থ না পাওয়ায় পথবাতি জ্বালানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। ফলে থমকে গিয়েছিল পথবাতি জ্বালানোর কাজ। সেই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। গত দু সপ্তাহ আগে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত জানিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি জানতেন না। গোটা বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি দ্রুত পথ বাতি জ্বালানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এরপরই দেখা দেয় প্রশাসনিক তৎপরতা। শুক্রবার পরীক্ষামূলকভাবে পথবাতী জ্বালিয়ে সেগুলি ঠিকঠাক জ্বলছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। এরপর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া কথা অনুযায়ী শনিবার রাত্রে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পানাগড়ের দার্জিলিং মোড়ে সুইচ অন করে পথবাতি জ্বালানো হয়।
এডিডিএ এর চেয়ারম্যান কবি দত্ত জানিয়েছেন,বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়া নিয়ে যে সমস্যা ছিলো সেটা আর থাকবে না। বিদ্যুতের বিল জমা দেবে সম্পূর্ণভাবে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। ফলে আর আলো নেভার কোনো ব্যাপার নেই। এছাড়াও পানাগড় বাজারে ও পানাগড় বাজারের রেল পাড় স্টেশন রোড সহ যে সমস্ত এলাকায় পথবাতি রয়েছে সেগুলোরও জ্বালানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
এদিকে,রাস্তায় পথবাতী জ্বলে ওঠায় আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকার মানুষ।এলাকার মানুষ জানিয়েছেন সন্ধ্যে হলেই পুরাতন জাতীয় সড়ক অন্ধকারে ডুবে যেত। দীর্ঘদিন ধরে তারা অপেক্ষায় ছিলেন এই পথ বাতি জ্বলার জন্য। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পথবাতী জ্বলে উঠলো।



