দুর্গাপুরের নাবালকের দেহ মিলল কলকাতায়, কয়লা চুরির মাশুল গুনলো সুরজিৎ?
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২ জুলাইঃ
দারিদ্রতা প্রান কেড়ে নিলো এক তরতাজা প্রাণ। কয়লা চুরি করতে গিয়ে একেবারে বেঘোরে প্রাণ গেল পনেরো বছরের এক নাবালকের। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এলো দুর্গাপুরের শালবাগান এলাকায়।
দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত শালবাগান এলাকায় দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন এরকম অনেক মানুষ রয়েছেন। রয়েছে স্কুল ছুট বহু শিশু। তাদেরই মধ্যে এক নাবালক সুরজিৎ রুইদাস।
সুরজিতের পরিবার জানায়, গত রবিবার সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ সুরজিৎকে তার এক বন্ধু বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই নাবালক। কোকওভেন থানায় মিসিং ডায়েরিও করা হয়। পুলিশ সুরজিতের সন্ধানে তল্লাশী শুরু করে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার বালীগঞ্জের রেলপুলিশের পক্ষ থেকে কোকওভেন থানায় জানানো হয়, রেলের ওয়াগণ থেকে একটি নাবালকের ঝলসানো মৃতদেহ মিলেছে। নাবালকের পকেটে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে, যা থেকে তাঁরা সুরজিতের পরিচয় জানতে পারে। কোকওভেন থানা থেকে সুরজিতের পরিবারকে থানায় ডেকে পাঠায়। সেখানে তার মৃতদেহের ছবি দেখে সনাক্ত করে এটি নিখোঁজ সুরজিৎ।

কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে ওই নাবালকের দেহ রেলে করে বালীগঞ্জ পৌঁছোলো কি করে? শালবাগান এলাকাটি দুর্গাপুর রেল স্টেশনে ঢোকা বেরোনোর মুখেই অবস্থিত। অনেক সময় সিগন্যাল না পেলে পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে পরে, আর তখনই কয়লার ওয়াগন থেকে কয়লা নামানোর কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক অনুমান এরকমই কোনো কয়লার ওয়াগন থেকে কয়লা চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সুরজিতের, আর সেই ওয়াগণে করেই নাবালকের দেহটি পৌঁছে যায় বালিগঞ্জে।
বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “স্থানীয় কয়লা মাফিয়ারা এরকম ছোট ছোট শিশুদের সামান্য কিছু টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ওয়াগন থেকে কয়লা চুরি করে নিজেরা লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সর্বোচ্চ কর্তা ও ডিআরএম এর কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানাবো।”
সুরজিতের মৃতদেহ আজ আনা হচ্ছে দুর্গাপুরে। এদিকে এই খবর চাউর হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শালবাগান এলাকায়।



