পানাগড়ে কর্মরত জওয়ানের কুকীর্তি, জাল নথি বানিয়ে বাংলাদেশী তরুণীকে বিয়ে
আমার কথা, পানাগড়, ২৯ জুলাই:
ভারতীয় সেনা কর্মীর স্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক। শুধু তাই নয়, ওই বাংলাদেশি স্ত্রীকে জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই জওয়ানের বিরুদ্ধে। প্রথম স্ত্রীকে লুকিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগ সেনা কর্মীর বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় স্ত্রী বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা। ঘটনাটি বীরভূমের নলহাটির কৈথা গ্রামের ঘটনা। সেনাকর্মীর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর অভিযোগ এর আগেও একাধিক সম্পর্কে যুক্ত ওই সেনা কর্মী এবং একাধিক বিয়েও করেছেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারত থেকে নিজেদের দেশে পাঠানোর অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। একাধিক রাজ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। এর মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এল বীরভূমের নলহাটি থেকে। এক বাংলাদেশি মহিলাকে বিয়ে করে তাঁর আধার, ভোটার, প্যান কার্ড বানিয়ে দিব্যি সংসার পেতেছিলেন বীরভূমের বাসিন্দা সেনাকর্মী জিয়ারুল সেখ, যিনি বর্তমানে পানাগড় সেনা ছাউনিতে কর্মরত।
জিয়ারুলের প্রথম স্ত্রী রোশনেয়ারা অভিযোগ,তার সঙ্গে ২০১৮ সালে বিয়ে হওয়া সত্বেও কাউকে কিছু না জানিয়ে ২০২৩ সালে বাংলাদেশি এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন তাঁর স্বামী আর তার জন্য নিজের কাকাকে স্ত্রীর বাবা সাজিয়ে ছিলেন জিয়ারুল।
বিষয়টি সামনে আসতেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে নলহাটী এক নাম্বার ব্লক প্রশাসন ও রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসন। সেই মতো রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে তদন্তের জন্য ডেকে পাঠানো হয় ওই সেনা কর্মী জিয়ারুল সেখ সহ বাংলাদেশী স্ত্রী হাবিবা খাতুন ও যাকে বাবা দেখানো হয়, ভোটার কার্ডে থাকা নাম শামসের শেখকে। পাশাপাশি বুথ লেভেল অফিসার কেও ডেকে পাঠানো হয়।
জানা গেছে বীরভূমের নলহাটির কৈথা গ্রামের বাসিন্দা জিয়ারুল শেখ। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত,বর্তমানে সে পানাগড় সেনা ছাউনিতে কর্মরত বলে পরিবার সূত্রে খবর।
অভিযোগ, কয়েক বছর আগে রোশনেয়ারা খাতুনকে বিয়ে করার পর সাংসারিক অশান্তির কারণে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন জিয়ারুল। সেই নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
এর পর ২০২৩ সালে কর্মসূত্রে পুনেতে থাকাকালীন তখনই জিয়ারুলের সাথে পরিচয় হয় বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা হাবিবার সাথে। সেই বছরেই হাবিবাকে বিয়ে করেন জিয়ারুল বলে অভিযোগ। তবে, বাংলাদেশি মহিলাকে বিয়ে করলেন কী করে?
সেই প্রশ্নের উত্তরে জিয়ারুলের প্রথম স্ত্রী রোশনেয়ারা খাতুনের অভিযোগ, জিয়ারুল নিজের কাকা সামসের সেখকে শ্বশুর বানিয়ে হাবিবার ভুয়ো আধার-প্যান-ভোটার কার্ড তৈরি করে নেন। ভারতীয় পরিচয়পত্র যেমন ভোটার, আধার ও প্যান কার্ড-এ তাঁর নাম হাবিবা খাতুন ও তাঁর বাবার নাম সামসের শেখ।
অভিযোগ সামসের সেখ আসলে সম্পর্কে জিয়ারুলের কাকা। গত জানুয়ারি মাসে হাবিবার সাথেও অশান্তি শুরু হওয়ায় বাংলাদেশে চলে যায় হাবিবা।
জিয়ারুলের দাদা জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার সম্পর্কে কিছু জানেন না। যে এসব করেছে সেই বলতে পারবে।’ আধার, প্যান কার্ড করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের স্বাক্ষরিত নথি প্রয়োজন। সেটা হলো কী করে সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কৈথা ১ পঞ্চায়েত প্রধান সুইটি বিবি জানিয়েছেন, ‘হাবিবাকে (বাংলাদেশি তরুণী) কোনওদিন গ্রামে দেখা যায় নি। সম্ভবত, নকল নথি দেখিয়ে আধার-প্যান কার্ড বানানো হয়েছে। বিষয়টি জানা ছিল না। এরকম যাতে না হয়, সেটা খেয়াল রাখা হবে।’




