লরির চাকায় পিষে যুবকের মৃত্যু, ভাঙচুর, মারধর, পথ অবরোধ,
আমার কথা, কাঁকসা, ৮ আগস্ট:র্ঘ
সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁকসা।পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে গ্রামে পুলিশ ঢুকতেই পুলিশকে লক্ষ করে ইঁট ছুঁড়তে থাকে উত্তেজিত জনতা।ইঁটের আঘাতে পুলিশের ৪টি গাড়ি ভাঙচুর হয়।বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়।মাথা ফাটে কাঁকসার আইসি প্রসূন খাঁ-এর।অল্পের জন্য রক্ষা পান কাঁকসার এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল।ভাঙচুর হয় তারও গাড়ি।
জানা গিয়েছে শুক্রবার সকালে সাইকেলে চেপে বাজার করতে যাচ্ছিলেন কাঁকসার সিলামপুরের কাটা বাগান এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ বাউড়ি।রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বেহাল রাস্তার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর পড়ে যায়।সেই সময় পাস দিয়ে যাচ্ছিল একটি লরি।সেই লরির পিছনের চাকা মাথার উপরে চেপে পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তার। মৃত যুবকের নাম কৃষ্ণ বাউরী। (২৪)। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
উত্তেজিত জনতা ঘাতক লরি ও একটি ডাম্পার ভাঙচুরের পাশাপাশি রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।লরির চালককে লরি থেকে নামিয়ে মারধর করতে থাকে।পরে তাকে একটি মন্দিরেই স্টোর রুমে আটকে রাখে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে
পুলিশকে ইঁট নিয়ে তেড়ে যায় জনতা।বাধ্য হয়ে পুলিশ গ্রাম ছেড়ে গ্রামের বাইরে চলে যায়।বার বার মৃতের পরিবারের সাথে ফোনে কথা বললেও গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ থামাতে চায় নি।
অন্যদিকে আহত চালক দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে অচৈতন্য হয়ে পড়লে গ্রামের কয়েকজন তাকে টোটো করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় টোটো থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।
সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাওয়ায় অবশেষে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ইস্ট অভিষেক গুপ্তা বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স নিয়ে গ্রামে ঢুকে গ্রামবাসীদের সাথে ও পরিবারের সাথে কথা বলে ক্ষতিপূরণের আস্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ উঠিয়ে নেয়।এর পরেই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিত্যদিন বেপরোয়া ভাবে ভাড়ি গাড়ি চলাচল করে।কাছেই রয়েছে দামোদর নদ।সেখানে বালি ঘাট থেকে বালি নিতে আসে বিভিন্ন এলাকা থেকে লরি।একদিকে ভারী যানবাহন চলাচল তার উপর বেহাল রাস্তা।যার কারণে নিত্যদিন ছোট খাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।ওই রাস্তা দিয়েই স্কুল কলেজের পড়ুয়ারা যাতায়াত করে।যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নিয়েই পারাপার করতে হয়।রাস্তার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজর নেই।দুর্ঘটনা ঘটলে গ্রামের মানুষ প্রতিবাদ করলে শাসক দলের নেতা কর্মী থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্টে তাদের বাড়ি গিয়ে শাসানো হয় বলে অভিযোগ।এলাকাটি রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।তারও এই বিষয়ে কোনো নজর নেই।
তারা দাবি জানান অবিলম্বে বালি ঘাট বন্ধ করতে হবে।তার সাথে বেহাল রাস্তা মেরামত করতে হবে।তা না হলে দুর্ঘটনা লেগেই থাকবে।
যদিও বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য জুড়ে বালি হোক বা কয়লা সব পাচার করে তোলা তুলে উপর মহলে পাঠাতে হয়।রাস্তার দিকে কারোর কোনো নজর নেই।গরিব মানুষ মরলো কি বাঁচলো, তাদের কিছু যায় আসে না।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ইস্ট অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন,সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল।সেখানে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।তার দেহ উদ্ধার করা হয়।পরিবারের সাথে কথা বলে যা ব্যবস্থা করার সেটা কথা বলে সমাধান করা হবে।গ্রামে উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে কয়েকদিন।



