বৃক্ষরোপনে ক্ষোভ, ডিএফওকে ধমকের কারনের ব্যাখ্যা দিলেন বিধায়ক
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৭ আগস্টঃ
সংবাদদাতাঃ সার্থক দে, মুনমুন দত্ত
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জেলা শাসকের সামনেই ডিএফওকে কে ধমক দিচ্ছেন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। বিধায়কের আচরণ নিয়ে সমালোচনায় সরব হন বিরোধীরা। রবিবার ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করেন বিধায়ক।
১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের ইছাপুর পঞ্চায়েতের বাঁশগড়া এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, এডিডিএর চেয়ারম্যান কবি দত্ত, জেলাশাসক এস,পেন্নাবলম, মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সহ অন্যরা। অনুষ্ঠানস্থলে এই কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিধায়ককে। কেন তাকে না জানিয়ে, কোন রকম আলোচনা না করে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি জবাব চান বনদপ্তর এর আধিকারিক অনুপম খাঁ এর কাছে। বেশ উত্তেজিত ভাষায় কথা বলছিলেন বিধায়ক। ঘটনার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও সেই ভিডিও র সত্যতা যাচাই করেনি “আমার কথা”।
শনিবার এই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। বিধায়কের আচরণকে নাটক বলে কটাক্ষ করেন তিনি। সরকারি আধিকারিককে বিধায়ক অপমান করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জিতেন্দ্র তিওয়ারি আরো বলেন যে, আমি শুনেছি গতকাল রাত ১২টা ৪০ এ বিধায়ক ডিএফও এর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পা ধরে নাকি ক্ষমা চেয়েছেন বিধায়ক। বলেছেন বাঁশগড়া ও আশেপাশের এলাকার লোকজন বিধায়কের ওপর ক্ষুব্ধ। তাঁকে ওঁরা ভোট দেবে না। তাই ওদের সন্তুষ্ট করতেই এটা করতে হয়েছে বিধায়ক। ঘটনা প্রসঙ্গে বন দপ্তরের আধিকারিক অনুপম খাঁ এর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করে রবিবার সমাজ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানান বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন যে, ডিএফওর সাথে আমার যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক। তাছাড়া উনি আমার থেকে বয়সে ছোট। তাই ওনার পায়ে ধরে কেন ক্ষমা চাইতে যাবো? আর রাতের অন্ধকারে আমি কখনও কোনো অফিসারের বাড়ি যাই না। যদি যেতেই হয় দিনের আলোতেই যাবো। আসলে জিতেন একটা উজবুক, কোথায় কি বলতে হয় জানে না। তাই ওনার এসব বানিয়ে বানিয়ে কথা না বলে নিজের কাজে মন দিক। পাশাপাশি সেদিনের ঘটনার ব্যাখায় দিতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, যে এলাকায় বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ওই এলাকায় প্রচুর আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করেন। এলাকার মাটিতে প্রচুর সাদা পাথর পাওয়া যায়, সেই পাথর তুলে তাদের জীবিকা চলে। বৃক্ষরোপণের ফলে বাস্তুচিত হওয়ার পাশাপাশি রুটি রুজিও হারাবে তারা। তাই ওই এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা করেই এই কর্মসূচি নেওয়া উচিত ছিল। তাছাড়া আমি এলাকার বিধায়ক এত বড় একটা উদ্যোগের বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। তাই আমার ক্ষোভ স্বাভাবিক। আদিবাসীদের বাসস্থান কর্মসংস্থান রক্ষা করতে তাদের পাশে আছি বলে বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন আমার আচরণে কেউ কষ্ট পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে এলাকায় বিধায়কের ব্যাখ্যা দেওয়ার পর সেই বিতর্ক থামে কিনা এখন সেটাই দেখার।



