গড়জঙ্গল থেকে অবৈধভাবে মোরাম কেটে নেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে
আমার কথা, সনাতন গড়াই, কাঁকসা, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ
শ্যামরূপা মন্দিরের রাস্তায় চলছে কাজ। আর সেই কাজ ঘিরেই উঠল গুরুতর অভিযোগ। গড় জঙ্গল থেকে অবৈধভাবে মোরাম কেটে নেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় ঠিকাদার রাজকুমার বিশ্বাস। কেন এই ঘটনা ঘটলো ঠিকাদারের কাছে জবাব চাইতে গেল বন সুরক্ষা কমিটি। ঠিকাদারকে ঘিরে ধরে শুরু হলো বিক্ষোভ। চরম উত্তেজনা দুর্গাপুর বনাঞ্চলের শিবপুর বিট অফিসে। বন সুরক্ষা কমিটির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ হলেও, রাস্তা বানানোর নামে ঠিকাদার প্রকাশ্যে আইন ভাঙছেন। সংরক্ষিত জঙ্গলের ভেতর থেকে মোরাম কেটে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্মাণকাজে। ক্ষুব্ধ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা বলেন, “সরকারি প্রকল্পের টাকা ভোগ করেও কেন গ্রামের মাটি লুটে নিতে হবে? এতে ঠিকাদার যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি প্রশ্ন উঠছে এই কাজে কি বন দপ্তরেরও মদত রয়েছে? আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।” শনিবার দুপুরে এই অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের কাঁকসার শিবপুর এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছায় কাঁকসার মলানদিঘী ফাঁড়ির পুলিশ। ঠিকাদারকে এবং বিট অফিসারকে ঘিরে ধরে শিবপুর বিট অফিসের সামনেই বিক্ষোভে সামিল হন বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা। ক্ষুব্ধ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্য ভগীরথ ঘোষের অভিযোগ, “জঙ্গলের সম্পদ লুট করে উন্নয়নের নামে প্রহসন চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছি।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত হন দুর্গাপুর বনাঞ্চলের বনাধিকারিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। যদি সত্যিই জঙ্গল থেকে মোরাম কেটে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা করা হবে।” এলাকার মানুষ জানাচ্ছেন, রাজা লক্ষণ সেনের প্রাচীন শ্যামরূপা মন্দির দর্শনের জন্য রাজ্য প্রশাসন এই রাস্তা নির্মাণ করছে। কাজ শুরু হওয়ায় রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কেন নিয়ম ভেঙে এমন কাজ করছেন? উৎসবের সময় জঙ্গলের মাঝখানে দুর্গাপুজোয় চারদিনে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার ভক্ত সমাগম হয়। কয়েক হাজার গাড়ির যাতায়াত থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নবনির্মিত পেভার ব্রিজের পাশে এভাবে মাটি কাটার ফলে বিপদ আরও বাড়ছে। ভিড়ের সময় যদি কোনো চারচাকা গাড়ি রাস্তা থেকে পড়ে যায়, তাহলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ঠিকাদারপক্ষ। সহযোগী দুর্গাপদ মহাপাত্রের দাবি, “সবকিছু প্রমাণসাপেক্ষ দেখা হোক। আমরা সঠিকভাবে কাজ করছি।” তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সব ঠিকঠাক হলে, জঙ্গলের ভেতর থেকে মোরাম কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে কেন?



