অন্য দুর্গাঃ হোম ডেলিভারি ব্যবসায় নিজে স্বাবলম্বী হয়ে অন্যদেরও পথ দেখাচ্ছেন শ্রাবন্তী
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ
সম্প্রতি শুরু করেছেন খাবারের হোম ডেলিভারি ব্যবসা। অল্প দিনেই মিলেছে সাফল্য। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য মহিলাদেরও রোজগারের পথ দেখাচ্ছেন গৃহবধূ শ্রাবন্তী। দশভুজা দুর্গার মত ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন পরিবারও।
মা দুর্গা দশ হাতে দশ রকম অস্ত্র নিয়ে বধ করে ছিলেন দুষ্টু অসুরকে। তাই দুর্গাকে বলা হয় দশভুজা। দেবী দুর্গা মাতৃ শক্তির প্রতীক। কারণ মহিলারাও ঘর সংসারের পাশাপাশি সবলীন ভাবে সামলান অন্যান্য কাজও। অনেক মহিলা আছেন যারা সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আবার অনেক মহিলা বাড়িতে বসেই সামলান নিজস্ব ব্যবসা। শ্রাবন্তী মন্ডল এরকমই একজন দশভুজা। করেন হোম ডেলিভারি ব্যবসা। গরম গরম পছন্দের খাবার অর্ডার মতো তৈরি করে পৌঁছে দেন বাড়ি বাড়ি । পুরো নাম শ্রাবন্তী মন্ডল। উখড়া গ্রামের পাঠক পাড়ায় শ্বশুর বাড়ি। স্বামী খনি সংস্থা ইসিএল কর্মী। রয়েছে দুই মেয়ে। ঘর সংসার সামলানোর পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি শুরু করেছেন এই হোম ডেলিভারির ব্যবসা। বাড়ির ছাদে রয়েছে খোলা কিচেন। সকাল থেকে সেখানেই শুরু হয় রান্নার কর্মযজ্ঞ। রান্না শেষে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন সেই খাবা। শুরু দিকে সব কাজ নিজে হাতে করলেও ব্যবসার প্রসার বাড়ায় বর্তমানে ৫ জন কর্মী রেখেছেন তিনি। দুপুরের খাবারে ভাত, ডাল, ভাজা, সবজির পাশাপাশি থাকে অর্ডার মতো মাছ, মাংসের পদও। দুর্গা পুজোর চার দিন বিশেষ পদের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান শ্রাবন্তী দেবী।
রান্না করতে করতেই শ্রাবন্তী দেবী জানান “আমার স্বামী ইসিএলে কাজ করেন। মেয়েরা স্কুল টিউশনে যাই। তাই বেশিরভাগ সময়ে বাড়িতে একা থাকতে হয় । বিরক্ত লাগত, তাই ব্যস্ত থাকার জন্যই হোম ডেলিভারির কাজ শুরু করি। এতে রোজকারের পাশাপাশি ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে যেটা আমি চেয়েছিলাম। নিজের রোজগারের পাশাপাশি আমার এই কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে আরও পাঁচজন। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে, এটা আমার কাছে একটি বাড়তি পাওনা। তিনি বলেন আমি ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে। আমার বাবাও ব্যবসায়ী। বাপের বাড়ির উৎসাহের পাশাপাশি স্বামী মেয়েও এই কাজে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়”।



