কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় মানি পরিবারে শুরু হয় লক্ষ্মী পূজা
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, ৬ অক্টোবরঃ
৫১ বছর আগে অন্ডাল মোড় সংলগ্ন উত্তরায়ন পল্লীর বাসিন্দা মানি পরিবারে শুরু হয় লক্ষ্মী পূজোর প্রচলন, আজও যা হয়ে আসছে পরম্পরা ও ঐতিহ্যের সাথে। পারিবারিক এই লক্ষ্মীপুজোর সাথে জড়িয়ে আছে পরিবারে প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার কাহিনী । মানি পরিবারের প্রবীণ সদস্য দিব্যেন্দু মানি বলেন আমার বাবা ঈশ্বর রাধাবল্লব মানি দক্ষিণখন্ড পঞ্চায়েতের ময়রা কোলিয়ারিতে খনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন । তখন আমরা থাকতাম খনি আবাসনে। আমরা ৬ ভাই, আমাদের কোন বোন নেই । কন্যা সন্তান না থাকাই পরিবারে একটা আক্ষেপ ছিল । তখনো বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর প্রচলন ছিল, কিন্তু পুজো হতো পটে । একবছর লক্ষ্মী পুজোর দিন বাড়িতে প্যাঁচার আবির্ভাব ঘটে । সেই সময় (১৯৭৪) আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানসম্ভাবনা ছিলেন । এরপর বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম হয় । কন্যার নাম সঞ্চিতা মাঝি । বাড়িতে প্রথম কন্যা সন্তান জন্ম পরিবারে খুশি ঢেকে আনে । কন্যা রূপে লক্ষ্মীর আগমন ঘটায় সেই বছর থেকেই মাটির প্রতিমা এনে ধুমধাম সহকারে শুরু হয় লক্ষী পূজোর আয়োজন । সেই থেকে প্রতি বছর পরম্পরা মেনে আজও লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন হয় বলে জানান দিব্যেন্দু বাবু । দিব্যেন্দু বাবুর মেয়ে সংঘমিতা মানি কর্মকার বলেন আমাদের বাবা, কাকা, জ্যেঠা নিয়ে পরিবার বড় । পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মেয়ে জামাই নাতি-নাতনী সহ আরও অনেকে পারিবারিক এই পুজোতে অংশ নেয় । তিনি জানান পুজো হয় দুটো প্রতিমার । তিনদিন পর পুরনো প্রতিমার বিসর্জন হয় । নতুন প্রতিমাটি রাখা থাকে । প্রথা মেনে সেই প্রতিমা বিসর্জন হয় পরের বছর ।



