‘ধর্ষণ’এর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া, ট্র্যাপ করে নির্যাতন?
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ১১ অক্টোবর:
ডাক্তারী পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় হল শহর দুর্গাপুর। শোভাপুরে একটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আপাতত চিকিৎসাধীন রয়েছে ছাত্রীটি।
নির্যাতিতা মা জানান, উড়িষ্যার বাসিন্দা শোভাপুরের ওই মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটি শুক্রবার রাতে তার এক পুরুষ বন্ধুর সাথে খাবার খেতে যায়। খাওয়া দাওয়ার পর সেই বন্ধুটি তাকে বাইরে ঘুরতে যেতে বলে। নির্যাতিতা প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে সে ওই বন্ধুটির সাথে যেতে রাজী হয়। এরপর তারা দুজনে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে যায়। সেখানে পথ আটকায় দু তিনজন ছেলে এবং ওই ছাত্রীকে চেপে ধরে ধর্ষণ করে বলে সন্দেহ করছেন নির্যাতিতার মা। এদিকে ঘটনার পর ওই নির্যাতিতা ছাত্রীটিকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করে পুরুষ বন্ধুটি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে আজ শনিবার সকালে উড়িষ্যার জলেশ্বর থেকে দুর্গাপুরে এসে পৌঁছেছেন ছাত্রীর মা ও বাবা। এদিকে পুলিশ ঘটনার কথা জানতে পেরে হাসপাতালে আসে। ধর্ষিতার সাথে কথা বলে ও তার জবানবন্দি নেয়। ছাত্রীর বাবা মা পুলিশের সাথে কথা বলেছেন, অভিযোগ জানিয়েছে। ছাত্রীর সঙ্গীকে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা বাবা।
ছাত্রীটির বাবার অভিযোগ, এই কলেজ মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয়। নিতাপত্তা রক্ষীদের চোখের সামনে দিয়ে রাতের বেলা কি করে ছেলে মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে যায়? তিনি অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এখন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনো পর্যন্ত্য ঘটনার সাথে আসলে কতজন যুক্ত তা পরিষ্কার ভাবে জানা যায়নি। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে। তবে যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে সেই ঘটনাই ঘটেছে নাকি এর পেছনে আরো কিছু আছে, নির্যাতিতার সঙ্গী এই ঘটনায় যুক্ত কিনা সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, যেমন যেমন তদন্ত এগোবে সেই মতো জানানো হবে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালেও ঘটেছিল এরকমই নারকীয় ঘটনা। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ডাক্তারী পড়ুয়াকে। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে গেছিল সারা দেশ জুড়ে। এরপর আবারও এক ডাক্তারী পড়ুয়ার ধর্ষণের ঘটনা ঘটল।



