দুর্গাপুর ধ*র্ষ*ণকান্ডের রাত এবং ১ ঘন্টা ৩১ মিনিটের রহস্য!
আমার কথা, মুনমুন দত্ত, দুর্গাপুর, ১২ অক্টোবর:
দুর্গাপুরের গণধর্ষণ কান্ডে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৩জন অভিযুক্তকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে ১ জনকে। সুত্র মারফত জানা গিয়েছে বর্তমানে নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে এই ঘটনায় সাধারন মানুষের মনে এখনও রয়েছে ক্ষোভ। কিন্তু শুক্রবার রাতে আসলে কি ঘটেছিল। কি হয়েছিল সেই দেড় ঘন্টায়?
শোভাপুরের ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার অর্থাৎ ঘটনার দিন আনুমানিক রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে ওই চিকিৎসক পড়ুয়া তাঁর সহপাঠি তথা বিশেষ বন্ধুর সাথে রাতের খাবার খেতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরোন। এরপর সেই বিশেষ বন্ধুটি রাত ৮টা ৪২ নাগাদ ক্যাম্পাসের গেটের সামনে একা ফিরে আসেন। ৫-৬ মিনিট গেটের বাইরে ঘোরাঘুরির পর তিনি ৮টা ৪৮ নাগাদ ফের সেখান থেকে চলে যান। এরপর নির্যাতিতা ও তাঁর ওই বিশেষ বন্ধু একই সাথে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন রাত ৯ টা ২৯ মিনিটে। এরপর রাত ৯টা ৩১ নাগাদ ওই ডাক্তারি ছাত্রী গার্লস হস্টেলের দিকে চলে যান। কিছু সময় পরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নির্যাতিতা তাঁর সাথে হওয়া শারীরিক নির্যাতন ও মোবাইল হারানোর কথা জানান।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরো বিষয়টি জানানো হয়। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে ওই দেড় ঘন্টায় কি ঘটেছিল তা তারা জানেন না বলে দাবি করেন। এর থেকেই উঠে আসছে বেশ কিছু প্রশ্ন?
নির্যাতিতার বিশেষ বন্ধুর ভূমিকা নিয়ে দানা বাঁধছে সন্দেহ। প্রশ্ন উঠছে রাত ৭টা ৫৮তে নির্যাতিতা ও তাঁর বিশেষ বন্ধুটি এক সাথে বেরোলেও ৮টা ৪২ এ কেন তিনি একা ক্যাম্পাসের গেটের সামনে ফিরে এসেছিলেন? এদিকে ওই ৪৪ মিনিট নির্যাতিতা একা কোথায় ছিলেন আর কি বা করছিলেন? প্রশ্ন এটাও যে ৮টা ৪৮ মিনিটে ওই সহপাঠি আবার গেলেনই বা কোথায়? এরপর ৮টা ৪৮ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত্য ওই সহপাঠি কোথায় গিয়ে ছিলেন? ৯টা ২৯ মিনিটে সহপাঠি ফের ওই নির্যাতিতাকে তাহলে কোথা থেকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরলেন? ক্যাম্পাসে ফিরেই কেন ওই নির্যাতিতা তাঁর সাথে হওয়া গণধর্ষণের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে সাথে সাথে না জানিয়ে গার্লস হস্টেলের দিকে চলে গেলেন, আর তাঁর বিশেষ বন্ধুই বা তাঁকে কেন যেতে দিলেন? সসর্বোপরি সব থেক বড় যে প্রশ্নটি শহরবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে তা হল, খাবার খেতে বেরিয়ে ওই মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসের পেছনের শুনশান রাস্তা ধরে পরানগঞ্জ কালীমন্দির শ্মশান সংলগ্ন জঙলে রাতের অন্ধকারে কেন তাঁরা গিয়েছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের জেরাতে বা তদন্ততে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশাবাদী শহরবাসী।



