সেই রাতে গভীর জঙ্গলে ঠিক কি ঘটেছিল? হাড়হিম করা তথ্য
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ১৫ অক্টোবর:
শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার পরানগঞ্জের জঙ্গলে চিকিৎসক পড়ুয়া তরুণীর উপর ঘটে নৃশংস ‘গণ ধর্ষণ’-এর ঘটনা। প্রথমে পুলিশ জানিয়েছিল, এটি ‘গণধর্ষণ’। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে নতুন মোড়। পুলিশের দাবি পাঁচজন মিলে নয়, একজনই ধর্ষণ করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেদিন চিকিৎসক ছাত্রীকে নিয়ে ওই জঙ্গলে গিয়েছিল তার সহপাঠী ওয়াসিফ আলি। ঠিক সেই সময়েই সেখানে আসে তিনজন যুবক। ওয়াসিফকে ভয় দেখিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ বলেছে টাকা আনতে, কেউ বলেছে পালিয়ে যেতে। ওয়াসিফ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেলে, সেই তিনজনের মধ্যেই একজন তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর তিনজনই ছাত্রীটির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও দু’জন আসে সেই জঙ্গলে। তখন ধর্ষিতা চিকিৎসক পড়ুয়া ছিনতাই হওয়া ফোন থেকেই তাদের ফোনে যোগাযোগ করে। এর পরেই তারা-ও পালায়। পুলিশ সেই ফোনকলের রেকর্ড এবং লোকেশন ট্র্যাক করে উদ্ধার করে ছাত্রীটির মোবাইল এবং গ্রেফতার করে পাঁচজনকে। কিন্তু এখানেই শেষ নয় তদন্তে উঠে আসছে আরও অজানা প্রশ্ন।
সহপাঠী ওয়াসিফ আলি কেন তরুণীকে একা ফেলে চলে গেল? তাকে যদি টাকার জন্য ব্ল্যাকমেইল করে পাঠানো হয়েছিল তো সে কেন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করল না? তারা কি নিয়মিত ওই জায়গায় যেত, সেই জন্যই কি লোক জানাজানি হওয়ার ভয়ে চুপ করে গেছিল? পাঁচজনের কেউ কি আগেই তাদের ফলো করছিল? এই পাঁচ জনের মধ্যে কেউ কি তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুলিশ এখন ওয়াসিফ আলিকে হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মহাকুমা আদালতে তোলা হবে তাকে। পাঁচজন ধৃতের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেই রহস্যের জট খুলতে চাইছে পুলিশ। সূত্রের ভাষায়
“এই কেসে এখনও অনেক অন্ধকার দিক রয়ে গেছে। কে আসল ধর্ষক, কে বা পরিকল্পনার নেপথ্যে সবটাই উন্মোচন করতে হবে।”



