ফের উত্তাল পরিস্থিতি, বীরভূম যাওয়ার পাকা সেতু অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
আমার কথা, সনাতন গরাই, কাঁকসা, ৭ জানুয়ারী :
জয়দেব মেলায় যাওয়ার অস্থায়ী সেতু তৈরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। জয়দেব মেলার জন্য অজয় নদে অস্থায়ী সেতুর দাবিতে জয়দেব সেতু অবরোধ। চরম উত্তেজনা কাঁকসার বিদবিহারের নবগ্রামে। দুই জেলার সংযোগকারী রাস্তায় বাঁশ বেঁধে এবং টায়ার জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ। মূলত: পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ। এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় আধঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে দুই জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে কাঁকসা থানা ও মলানদিঘি ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখেও পড়তে হয় পুলিশকে। অস্থায়ী সেতু করা না হলে অবরোধ উঠবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত: জঅয়দেব – কেন্দুলির মকর মেলার অজয় নদের উপর অস্থায়ী সেতুর দাবিতে প্রায় মাস খানেক ধরে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহারের বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। স্থায়ী সেতুর পর অস্থায়ী সেতু অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ায় বহু বছরের রেওয়াজ অনুযায়ী অস্থায়ী সেতু দিয়েই ওপারে যাওয়ার দাবি জানান এপারের বিদবিহার সহ পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দারা। বীরভূমের জয়দেবে মকর মেলায় যাওয়ার জন্যে এই অস্থায়ী সেতু মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের আশ্বাসের পরও তৈরি হয়নি। এরপর বিক্ষোভের জেরে অস্থায়ী সেতুর কাজ আরম্ভ হলেও বীরভূম প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার বিকেলে এই অস্থায়ী সেতুর কাজ বন্ধ করতে এলে বীরভূম সেচ দপ্তরের গাড়ি আটকে দেয় বিদবিহারের বাসিন্দারা। এই নিয়ে অজয় ঘাটে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেচ দপ্তরের অধিকারিকদের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ‘অপহরণ’ করে নিয়ে আসেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আসে কাঁকসার মলানদিঘি ফাঁড়ি ও ইলামবাজার থানার পুলিশ। বীরভূমের ময়ুরাক্ষী সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের চার ঘন্টা ধরে আটকে রেখে চলে বিক্ষোভ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু না হলে বিক্ষোভ চলতে থাকবে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় ছেড়ে দেওয়া হয় সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের।



