পানাগড় শিল্পতালুকে ধর্ণায় কয়েকশো শ্রমিক
আমার কথা, ১৯ জানুয়ারী
তনুশ্রী চৌধুরী, কাঁকসা:
গত বাম জামানায় পানাগড় শিল্প তালুক তৈরির জন্য অধিগ্রহণ হয়েছিল প্রায় ১৬০০ একর জমি। জমির মালিকরা এবং বর্গাদাররা জমির বদলে কাজ সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস পেয়ে জমি দান করেছিলেন।। তৎকালীন বাম সরকারের সেই জমি অধিগ্রহণ করার পর পানাগড় শিল্প তালুকে তৃণমূল সরকার আসার পর একাধিক কারখানা গড়ে ওঠে। সেই সমস্ত কারখানায় স্থানীয়দের কাজ দেওয়া হলেও। নিয়মিত কাজ না পাওয়ার অভিযোগ জমিদাতা এবং স্থানীয়দের। অভিযোগ সময়মত বেতন পাওয়া যায় না। প্রতিমাসে যে পরিমাণে তাদের বেতন দেওয়া হয় সেই বেতনে তাদের সংসার চলে না।
বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানালেও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোন রকম কর্ণপাত করে না বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে সোমবার সকাল থেকে পানাগড় শিল্পতালুকে বেসরকারি সার প্রস্তুতকারি কারখানার গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন শ্রমিক। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কেউ বর্গাদার রয়েছেন, কেউ আছেন জমি দাতা পরিবারের ছেলে। পাশাপাশি কোটা বুদবুদ এবং মারো সহ পানাগড়ের অধিকাংশ বেকার যুবক সার কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। কাজ করার জন্য তাদের ন্যূনতম সেফটি সিকিউরিটি কোনো কিছুই নেই। সাত থেকে আট হাজার টাকা করে তাদের প্রতি মাসে বেতন দেওয়া হয়। এই বেতনে তাদের কোনভাবেই সংসার চলে না। বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানালেও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো নরকম ব্যবস্থা নেয় না বলেই অভিযোগ। এমনকি তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে জানানো হলেও তাদের কথাতেও কোনরকম কর্ণপাত করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের শ্রমিকরা একজোট হয়ে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হবে ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে কারখানার গেট চত্বরে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বর্ধমান সদরের তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য তথা জেলা পরিষদের সদস্য রামকৃষ্ণ ঘোষ জানিয়েছেন, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন এই বিষয়ে তারা অবগত আছেন। বেতন বৃদ্ধি সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার আলোচনা করেছিলেন কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। যেহেতু আন্দোলনকারীরা সকলেই ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন তাই কারখানা কর্তৃপক্ষ কে সাথে নিয়ে ঠিকা সংস্থাগুলির সাথে আলোচনা করে দ্রুত শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



