তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তাক্ত আরতি গ্রাম
আমার কথা, ২৯ জানুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, রক্তাক্ত এলাকা। একই দলের দুই গোষ্ঠীর মারামারিতে ফাটল মাথা, ছড়াল আতঙ্ক। পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে চরম উত্তেজনা। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল।দুর্গাপুর ফরিদপুর থানার অন্তর্গত আরতী গ্রামে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বারবেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দু’জনের মাথা ফাটে, আহত হন আরও একাধিক ব্যক্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ফরিদপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ঘটনায় আহত শেখ নফিজুল দাবি করেন,“শেখ রাজু ও শেখ আফজলের নেতৃত্বে আমার উপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে। আমার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার স্ত্রী একজন পঞ্চায়েত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।”
অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা শেখ আফজাল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তা খোলা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন শেখ নফিজুলের মামারাই প্রথম শেখ রাজুর উপর হামলা চালায়। শেখ রাজুর চোখে আঘাত করা হয়েছে, তার ভাই শেখ সামিউল ইসলাম ওরফে নয়নের মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে গ্রামের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। নফিজুলের বাড়িতে কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের ঠিকা শ্রমিক সংগঠন ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই আরতী গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই পুরনো দ্বন্দ্বই হঠাৎ প্রকাশ্যে আসে। রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বৈঠকের মধ্যেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা গ্রাম ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরতী গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি। গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোকাররম রয়েছে।



