দীর্ঘ লড়াই করেও হল না শেষ রক্ষা, না ফেরার দেশে চলে গেল পরিবারের একমাত্র ভরসা পঙ্কজ
আমার কথা, ৩ ফেব্রুয়ারী
তনুশ্রী চৌধুরী, পানাগড়:
গত ২৬শে জানুয়ারি পানাগড় বাজারে ট্রাক্টরের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় পঙ্কজ পান্ডে নামের ৩৫ বছর বয়সি টোটো চালক। ঘটনার দিন যাত্রী নামিয়ে টোটোর ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন পঙ্কজ। পানাগড় বাজারে চৌমাথা মোড়ে বুদবুদের দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টর আচমকা তার টোটো তে ধাক্কা মারলে, রাস্তার উপর পড়ে যায় পঙ্কজ। তার পায়ের ওপর দিয়ে ট্রাক্টরের চাকা চলে যায়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা এবং স্থানীয়রা পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে, সেখান থেকে তাকে রাজবাঁধে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল পঙ্কজের।ঘটনার দিন পানাগড় বাজারের চৌমাথা মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা।পরে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতির সামাল দেয় ও বিক্ষোভ উঠিয়ে পুরাতন জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পরে ট্রাক্টর মালিকের সাথে আলোচনার পর ট্রাক্টর মালিকের আর্থিক সহযোগিতায় পঙ্কজের অস্ত্রোপচার সফল হলেও। হাসপাতালেই ভর্তি ছিল পঙ্কজ। সোমবার রাত্রে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তড়িঘড়ি তাকে আইসিউতে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যু হয় পঙ্কজের। পঙ্কজ এর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি টোটো চালকরা তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই শোকাহত হয়ে পড়েন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে পঙ্কজের কাঁধে সংসারের প্রায় সমস্ত দায়িত্ব ছিল। দুই অবিবাহিত বোনের বিয়ের খরচ যোগাড় করার পাশাপাশি ভাইদের পড়াশোনার খরচও টোটো চালিয়ে যোগাড় করতো পঙ্কজ। পঙ্কজের মৃত্যুর পর আগামী দিনে কিভাবে পরিবার বেঁচে থাকবে সেই নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।



