ডিএসপি এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভে ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন দুর্নীতি?
আমার কথা, ৪ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
মাত্র কয়েকমাস হল ডিএসপি এমপ্লয়িজ কনজিউমার কো-অপারেটিভ এর ম্যানেজিং কমিটি হয়েছে। এই অল্প দিনের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক দূর্নীতির কথা সামনে এলো। গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ কেরোসিন তেল এই কো অপারেটিভ এর মাধ্যমেই দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের ১০ টি ডিপোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অভিযোগ কেরোসিন তেল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর শংকর সরকার কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রথমে সদস্য সুশীল দাসকে দিয়ে ৪০০০ লিটার এবং পরে তিনি নিজে স্বাক্ষর করে আরো ১২ হাজার লিটার কেরোসিন তেল খনি অঞ্চল উখরার নির্দিষ্ট কেরোসিন ডিলারের কাছ থেকে তুলে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই তেল কনজিউমার কো-অপারেটিভের অধীনস্থ দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের ১০ টি কেরোসিন ডিপোতে এসে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। তাহলে সেই তেল গেল কোথায়? অভিযোগ নতুন বোর্ড আসার পর কেরোসিন তেলের দাম যেহেতু খুব বেশি ছিল অর্থাৎ লিটার প্রতি ১০০ টাকা ছিল তখন অনেকেই কেরোসিন তেল নিতেন না। সেই কারণে নতুন বোর্ড জানুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল আর তোলেনি। কিন্তু তারপর তেলের দাম অনেকখানি কমে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে দুবার কেরোসিন তেল তোলা হয়। যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার লিটার। কাজোড়া এলাকার গুপ্তা অটোমোবাইল এন্ড ইঞ্জিনিয়াররিং ওয়ার্কসের থেকে ৪০৬২ লিটার এবং পরে তোলা আরো ১২ হাজার লিটার কেরোসিন নেওয়ার পর এই সেই তেলের দেখা পাওয়া যায় নি কেন কেরোসিন বিতরণ করা স্টিল টাউনশীপের ১০ টি কেন্দ্রে? শোনা যাচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ তেল বাইরে খোলা বাজারে বিক্রি করে নিজেরা মুনাফা লাভ করেছে। এই খবর জানা মাত্রই সারা শিল্পাঞ্চল ও কারখানার অভ্যন্তরে খুব সমালোচনা শুরু হয়েছে। যাদের জন্য এই ঘটনা হল ও গরীব মানুষ তেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে অভিযোগ জানানো হোক। এই অভিযোগে কেরোসিন তেল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর শংকর সরকারের বিরুদ্ধে একটি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে এই বিপুল পরিমাণ কেরোসিন কোথায় কিভাবে গেল তার জবাব চাওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় বিপাকে শাসকদল।
দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক বলেন,”তেল তোলা হয়েছে কিন্তু গোডাউনে যায়নি। এই বিষয়টি জানতে পেরে এই ডাইরেক্টর শংকর সরকারকে নোটিশ করা হয়েছে। এইভাবে তেল তুলে অন্য জায়গায় কেন রাখা হলো সেই নিয়েও আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”
যদিও শংকর সরকার মৌখিকভাবে জানান “জানুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল তোলা হয়নি তাই ফেব্রুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল তোলা হয়েছে। এবং সেটি ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে। আজকে যেমন দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও দেওয়া হবে।”
কটাক্ষ করে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘরুই বলেন,”কেরোসিনেও দুর্নীতি। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে আর লুটে নিচ্ছে তৃণমূলের নেতারা। মানুষ এইসবের বিরুদ্ধে জবাব দেবে।”



