স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুল দিয়েছিল যে কয়লা মাফিয়া, সেই জয়দেব খাঁকে আমন্ত্রিত সদস্য করল বিজেপি
আমার কথা, ১১ মার্চ:
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
মুখে ‘মাফিয়া রাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর বিরুদ্ধে সরব হলেও বাস্তবে বিজেপিতে তার উল্টো ছবি দেখা গেল। আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের পরিচিত কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ-কে বিজেপি আসানসোল দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলায় ‘স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য’ করেছে। আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের প্যাডে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কয়লা মাফিয়াদের নিয়েই দল চালাতে চাইছে বিজেপি কটাক্ষে তৃণমূল। সেই নিয়ে দুর্গাপুরে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক। সাংবাদিক বৈঠক করলেন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, তৃণমূল নেতা ভি শিবদাসন দাশু, মহিলা সভানেত্রী অসীমা চক্রবর্তী, জামুরিয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ ঘটক প্রমূখ। সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দাবি করেন, “জয়দেব খাঁ দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সহ মথুরাপুরে প্রকাশ্যে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে মাফিয়াদের দলে জায়গা দিচ্ছে। বছরখানেক আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা করেছিল এই কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ। কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা এর হোটেলেও কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর সাথেও দেখা গিয়েছিল কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ কে। এখন ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে বিজেপি।” এছাড়াও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ফেসবুক পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও জয়দেব খাঁ-র ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অতীতে অন্ডাল বিমানবন্দরে অমিত শাহকে বিদায় জানাতেও তাকে দেখা গিয়েছিল। বিজেপির ‘স্বচ্ছ রাজনীতি’-এর দাবিকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াই করার বদলে বিজেপি নাকি সমাজবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টেনে এনে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
অপরদিকে এ বিষয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে আক্রমণ করে বলেন, “যিনি জয়দেব খাঁকে নিয়ে সরব হয়েছেন সেই নরেন চক্রবর্তীর সাঙ্গোপাঙ্গোরাই সব অবৈধ কারবারের সাথে যুক্ত”।



