স্বাস্থ্য বীমা কাঠামোর উপর নজর নেই ভারত সরকারের, অভিযোগ বীমা এজেন্টদের
আমার কথা, ১৪ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর :
স্বাস্থ্য বীমা পরিষেবা নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকেই দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একাধিক বীমা এজেন্ট। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারির অভাবেই দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক স্বাস্থ্য বীমা সংস্থা গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে এই সংস্থাগুলির অনেকেই গ্রাহকদের প্রত্যাশিত পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ, আর তার দায় সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরেই বর্তাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত স্বাস্থ্য বীমা সংস্থার এজেন্টদের নিয়ে অল ইন্ডিয়া জেনারেল ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কাঁকসার মুচিপাড়ার একটি হোটেলে শনিবার একটি শিক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় একশো জন বীমা এজেন্ট এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যবিমা পরিষেবার বর্তমান অবস্থা, গ্রাহকদের অভিযোগ এবং পরিষেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে শিবিরে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এজেন্টদের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্বাস্থ্যবিমা বাজার দ্রুত প্রসারিত হলেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। অনেক নতুন কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করছে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু দাবি মেটানো, হাসপাতালে ক্যাশলেস পরিষেবা বা গ্রাহক সহায়তার ক্ষেত্রে বহু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গাফিলতি। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনে বীমার টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে কিংবা নানা অজুহাতে দাবি খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া জেনারেল ইন্সুরেন্সের সাধারণ সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত অভিযোগ করেন,”এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রিমিয়াম দেওয়ার পরেও জরুরি সময়ে নির্ভরযোগ্য পরিষেবা মিলছে না। ফলে পুরো ব্যবস্থার উপরই প্রশ্ন উঠছে।এই অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ নেই। নতুন কোনও মেডিক্লেম সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়ার আগে তার আর্থিক স্থিতি, পরিষেবা দেওয়ার সক্ষমতা এবং গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়গুলি আরও গভীরভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগের মাধ্যমেই এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। স্বাস্থ্যবিমা খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। আর এইসব কারণ উঠে আসছে এর দায়ী সম্পূর্ণ ভারত সরকারের।”



