দুর্গাপুরে রাঢ়বঙ্গের প্রার্থীদের নিয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠক বিজেপির
আমার কথা, ২৩ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে ফেলেছে গেরুয়া শিবিরকে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে মজবুত করতে এবং প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই রাঢ়বঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার মোট ৫৬ জন প্রার্থীকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সতীশ ধন্ড, সুনীল বানসাল। এছাড়াও ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ৫৬টি বিধানসভার অধিকাংশই বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকায় বিজেপির কাছে এই অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাঢ়বঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান মিলিয়ে মোট ৫৬টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এই বৈঠক হলেও, বাস্তব চিত্র বলছে এই আসনগুলোর বড় অংশ এখনও তৃণমূলের দখলে। ফলে বিজেপির কাছে এই অঞ্চল ‘টার্গেট জোন’। বিশেষ করে দুর্গাপুর পূর্ব, সিউড়ি, বোলপুর, লাভপুর, নানুর, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, দুবরাজপুর, কাটোয়া, মঙ্গলকোট, আউসগ্রাম, গলসি, আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ, কুলটি, রানিগঞ্জ, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, তালডাংরা ও রাইপুরের মতো বিধানসভা কেন্দ্রগুলিকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক থেকে প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে একাধিক দিকনির্দেশ দেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করে সংগঠনকে একজোট করার উপর জোর দেওয়া হতে পারে। বৈঠকের পর রাঢ়বঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিজেপির রাজ্য নেতা বর্তমানে বিজেপির প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন,”এই বৈঠক থেকে রাজনৈতিক রণকৌশল সাজানো হবে। এখন আকাশে বাতাসে একটাই সর তৃণমূলকে হারানো। তাই আমরা বলছি পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বর্ষিয়ান তৃণমূল নেতা তথা দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। তিনি বলেন,”নির্বাচনের আগে বাইরে থেকে নেতারা আসবে ওদের এটাই তো স্বাভাবিক। মানুষকে নানান প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে ওরাও আবার চলে যাবে। প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হবে না। জনসমর্থন জনতা জনার্দনই সিদ্ধান্ত নেন।”




