নাম বাদে কার লাভ, কার ক্ষতি ? ফলাফল নিয়ে বাড়ছে জল্পনা রানীগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে
আমার কথা, ২০ এপ্রিল
সার্থক কুমার দে, প: বর্ধমান:
এস আই আর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ যাওয়াই কার লাভ কার ক্ষতি? ফলাফল নিয়ে বাড়ছে জল্পনা রানীগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে। তৃণমূলের দাবি এস আই আর বুমেরাং হবে বিজেপির পক্ষে। অন্যদিকে নাম বাদ যাওয়ায় লাভের আশা দেখছে বিজেপি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে বাদ গেছে ৯০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম। এর ফলে কোন দল লাভবান হবে, আর কোন দলের ক্ষতি হবে তা নিয়ে চলছে নিরন্তন আলোচনা আর অংক কসার কাজ। রানীগঞ্জ পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে এস আই আর এর প্রভাব কতটা পড়বে তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। কেননা রাণীগঞ্জ ও পাণ্ডবেশ্বর এই দুটি কেন্দ্রে ২০১১ সালের পর হওয়া তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে হার-জিতের ব্যবধান ছিল খুবই কম। তার উপর এবার অংক আরও কঠিন করে তুলেছে এসআইআর এ তিন দফায় বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা। যার ফলে রানীগঞ্জ ও পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে এবার খানিক দ্বন্দ্বে রয়েছে শাসকবিরোধী উভয় দল।
২০১১ সালের ভোটে অল্প ব্যবধানে এই কেন্দ্রে জিতে তৃণমূল প্রার্থী সোহারব আলী। কিন্তু ২০১৬ সালে সিপিএম জয় ছিনিয়ে নেই এই কেন্দ্রে। ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে ফের তৃণমূল অল্প ব্যবধানে জয়ী হয় রানীগঞ্জ কেন্দ্রে। আবার উল্টোদিকে ২০১৪ ও ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে এগিয়েছিল বিজেপি। তবে ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের নিরিখে এই কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাণীগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে ৪৫ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের। বড় সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া এই কেন্দ্রে ফলাফলে কি প্রভাব পড়ে তা নিয়ে দুই দলই রয়েছে দ্বন্দ্বে।
অন্যদিকে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রটি একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল । ২০১১ সালের পরিবর্তনের ভোটেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিল সিপিআইএম প্রার্থী । তবে ২০১৬ সালে সিপিএমকে হারিয়ে প্রথমবার এই কেন্দ্রর থেকে জয়ী হয় তৃণমূল । ২০২১ সালেও এই কেন্দ্রে জয়ের ধারাবাহিকতা বোঝায় রাখে শাসক দল । তবে গত তিনটি নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল খুবই অল্প । এস আই আর প্রক্রিয়ায় পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ গেছে ৩২ হাজার ৬০০ তিনজন ভোটারের নাম । এত বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়াই এবার ভোটে কি সমীকরণ দাঁড়াবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা । রানীগঞ্জ ও পাণ্ডবেশ্বর দুটি কেন্দ্রেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকল মূলত লড়াই হচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে । দু দলের শীর্ষ নেতৃত্বই দাবি করছে এসআইয়েরের সুফল পাবে তারা । কিন্তু কিভাবে ? জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন যে সকল ভোটারের নাম বাদ গেছে তারা বেশিরভাগই তৃণমূলের ভোটার । ফলে অংকের হিসাবে বিজেপি দুটি কেন্দ্রেই এগিয়ে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি । অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি এসআইআর এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ গেছে। যার ফলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যে । ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট বক্সে । তৃণমূলের পক্ষে তা ইতিবাচক হবে বলে দাবি তাদের ।
ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নির্বাচনী ফলাফলে কি প্রভাব ফেলে ! এর ফলে কোন দল লাভবান হবে আর ক্ষতি হবে কোন দলের ? তা অবশ্য জানা যাবে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরেই বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের । তবে যে দলই জিতুক জয় পরাজয়ের ব্যবধানে কম হবে বলে মত তাদের ।



