সরকার বদল হতেই ছেলের খুনে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালো পরিবার
আমার কথা, ১৩ মে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁকসা:
২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার জঙ্গলমহলে বিজেপির বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষ খুন হন দুষ্কৃতীদের গুলিতে। দলের বৈঠক সেরে বাড়ি ফেরার পথে সরস্বতীগঞ্জ গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় হামলার মুখে পড়েন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। অভিযোগ, রাস্তা আটকে লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় প্রায় চল্লিশ জন দুষ্কৃতী। পালানোর চেষ্টা করলে সন্দীপের মাথায় ও বুকে গুলি লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় আহত হয় বিজেপি কর্মী জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনের তন্ময়ের বাইকেই চেপেছিল সন্দীপ। সেই বাইক নিয়ে আজও ঘুরে বেড়ান তন্ময়। তাঁরা অভিযোগ করেন, শেখ সাইফুল-সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিয়েই এই খুন করানো হয়েছিল। সন্দীপ ঘোষের মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁকসা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। তৎকালীন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও পরবর্তীকালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন। তারা সকলেই হুংকার দিয়ে বলেছিলেন যেদিন বিজেপির ক্ষমতায় আসবে সেদিন আবার ফাইল খোলা হবে। পার পাবে না সন্দীপ ঘোষের হত্যাকারীরা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবারের ও এলাকার মানুষের মধ্যে। বিজেপি সরকার গঠন করতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন তদন্ত আবার হবে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না।
এই কথা শোনার পরেই সন্দীপের বাবা বিজয় ঘোষের কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তিনি ছেলের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়েই বলেন,”চাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। বর্তমান বিজেপি সরকারের কথা শুনে মনে হচ্ছে শান্তি পাবে দোষীরা। তবে আমি চাই সিবিআই তদন্ত হোক। তবে যেদিন শাস্তি হবে সেদিন আমাদের শান্তি হবে।”
মা প্রতিমা মন্ডল বলেন,”বিজেপি করাই অপরাধ ছিল আমার ছেলের। তাই গুলি করে মেরে দেওয়া হয়েছিল। খুব কষ্ট হয়। আট বছর হতে চলল এখনো কিছুই হলো না। সিবিআই তদন্ত করে খুঁজে বের করা হোক আমার ছেলের খুনিদের।”
খুব কাছ থেকে দেখেছিল সন্দীপের মৃত্যু সেই বন্ধুর মৃত্যুর কথা শুনলে আজও শিউরে ওঠে বিজেপির কর্মী তন্ময় কর ও জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন। জয়দীপ বলেন,”নতুন সরকার গঠন হয়েছে আমারা খুশি। তবে সেদিনের ঘটনা ভুলতে পারিনি। মুখ্যমন্ত্রী শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। আবার সেই ফাইল খোলার বার্তা দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী বিচার এবার হবেই।”
তন্ময় করের দাবি,”আমার বাইকে সন্দীপ চেপে ছিল। ফিরছিলাম ৬জন মিলে ৩টি বাইকে করে। তখনই দুষ্কৃতীরা গুলি করে। সন্দীপ বুকে গুলি লাগে। আমার বাইক থেকে পড়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্য হয়। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে আছে। এখন আমাদের আবেদন শাস্তি যেন হয়।”
অপরদিকে সন্দীপ খুনের ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায়ের। বিজেপি নেতা ভগীরথ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। বলেন “ভগীরথ ঘোষের মতো লোকেরা প্রদীপ বাবুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিজেপিকে হারানোর জন্য সন্দীপ ঘোষের খুনিদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল। আমরা ওদের মতো লোককে গ্রেপ্তার করার জন্যও পুলিশকে বলেছি”।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভগীরথ ঘোষ বলেন, ” ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে”।



