বিজেপি সাংসদের নামাঙ্কিত বোর্ড সরিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির নাম, বিতর্ক
আমার কথা, ২৭ মে
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
প্রাক্তন বর্ধমান দুর্গাপুরের বিজেপি সাংসদের তহবিলের বোর্ড সরিয়ে বসেছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির নতুন বোর্ড। আর সেই নতুন বোর্ডে দেখানো হল, পঞ্চায়েত সমিতির তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে বসানো হয়েছে সৌরশক্তি চালিত লাইট। এরপরই উঠতে শুরু করেছে বড় প্রশ্ন, যে লাইট আগে থেকেই সাংসদ তহবিলের সাড়ে তিন লক্ষ টাকায় বসানো ছিল, সেই একই প্রকল্পে ফের কেন দেখানো হল নতুন করে টাকা খরচের হিসেব? সরকারি প্রকল্পের কৃতিত্ব দখল করতে গিয়েই কি বোর্ড বদলের আড়ালে হয়েছে টাকার খেল? এমনই ঘটনা কাঁকসার গোপালপুর এলাকার। যদিও দায়ী এড়িয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালপুর পশ্চিম পাড়ায় ২০২৪- ২৫ অর্থবর্ষে সৌরশক্তি চালিত লাইট বসানোর সময় সেখানে বিজেপি সাংসদের তহবিলের বোর্ড লাগানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল সুবিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার তহবিল থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ব্যয় করে এই লাইট বসানো হলো। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই বোর্ড সরিয়ে সেখানে বসানো হয় তৃণমূল পরিচালিত কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির নতুন বোর্ড। আর সেই বোর্ডেই উল্লেখ করা হয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের পঞ্চম এসএফসি ফান্ড থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই লাইট বসানো হয়েছে। এই ঘটনাকে সামনে এনে সরব হয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, আগে থেকেই তৈরি থাকা প্রকল্পকে নিজেদের উন্নয়ন বলে দেখাতেই এই বোর্ড বদলের রাজনীতি করছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন, যদি পঞ্চায়েত সমিতির টাকায় নতুন করে কাজ হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? বিজেপির আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকায় তৈরি প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। একই প্রকল্পে দু’বার টাকা দেখানোর চেষ্টা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও তদন্তের দাবি তুলেছে গেরুয়া শিবির। এলাকার বিজেপি কর্মী, সংগ্রাম মুখোপাধ্যায় অভিযোগ,”তৃণমূল আমলে প্রতিবাদ করার কোন উপায় ছিল না। প্রতিবাদ করলে এই কাজ থেকে বের করে দিত ভয় দেখাতো। এই লাইটটি সাংসদ তহবিল থেকে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতি প্রথমে বসায়। পরবর্তীকালে সেই বোর্ডটি সরিয়ে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির ফান্ড থেকে বসানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই হাই মাস্ট লাইটে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা এর তদন্ত চাইছি। যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তাদের শাস্তিও চাইছি।” অপরদিকে গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান গণেশ মন্ডল অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “ঘটনাটা সত্য, অনেকদিন পর্যন্ত্য সাংসদ আলুওয়ালিয়াজির নাম ছিল। কবে যে এটা পাল্টালো খেয়াল করিনি। আমি চাই এটার তদন্ত হোক”।



