প্রাক্তন বিধায়কের গোপন ডেরায় হানা স্থানীয়দের, উদ্ধার সরকারী ত্রাণ সামগ্রী
আমার কথা, ৫ জুম
সার্থক কুমার দে, পান্ডবেশ্বর:
তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেনের গোপন ডেরায় জনতার হানা, উদ্ধার হল সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ।
সার্থক কুমার দে, দুর্গাপুর : পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর আবাসন সংলগ্ন গোপন ডেরাতে হানা দিল স্থানীয় জনতা । ডেরা গুলিতে মজুদ রয়েছে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সহ প্রচুর জিনিস । প্রকৃত বেনিফিসারিদের বন্টন না করে পাচারের উদ্দেশ্যে প্রাক্তন বিধায়ক এইসব জিনিসপত্র মজুত করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ ক্ষুব্ধ জনতার । পাণ্ডবেশ্বরের বাঁকোলা কোলিয়ারীর সুভাষ কলোনিতে আবাসনে সপরিবারে থাকেন নরেন্দ্রনাথ বাবু । আবাসন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে এনজিও “তৃনাঙ্কুর” সংস্থার মাল্টি জিম, পার্ক, কমিউনিটি হল, গেস্ট রুম সহ কয়েকটি আবাসন । এই এনজিও সংস্থাটি নরেন্দ্রনাথ বাবুর নিয়ন্ত্রনাধীন বলে পরিচিত । শুক্রবার সকালে সেখানে এর হানা দেয় স্থানীয় মানুষজনের একাংশ । বিভিন্ন রুমের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে তারা । দেখা যায় সেখানে মজুদ রয়েছে শাড়ি, কাপড়, বাচ্চাদের পোশাক, গোলদারি সামগ্রী, ত্রিপল, ছাতা, রেনকোট সহ প্রচুর সামগ্রী । সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উপভোক্তাদের বিতরণ না করে পাচারের উদ্দেশ্যে বিধায়ক সেগুলি গোপনে মজুদ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বিজেপি কর্মী বীরেন্দ্র কুমার ভূঁইয়া, আসিফ ইকবাল সহ অন্যরা । কমিউনিটি হলের পেছনে রয়েছে একটি গেস্ট হাউস । অবসরপ্রাপ্ত খনি কর্মীদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই গেস্ট রুমটি । বিলাস বহুল সেই গেস্ট রুমে রয়েছে বাথ টাব, ডিভান খাট সহ আধুনিক আসবাবপত্র । সেখানেই ডিভান খাটের নিচে ও কয়েকটি ড্রয়ের এ পড়ে থাকতে দেখা যায় কন্ডম সহ বেশ কিছু নিষিদ্ধ জিনিস । উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ বিধায়ক ও তার সঙ্গী সাথীরা এই গেস্ট হাউসে নিয়মিত আসর বসাতেন । থাকতো মদ্যপান সহ ফুর্তির সমস্ত রকম ব্যবস্থা । জনতার হানা দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ । পুলিশ হানা দেওয়া জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে দূরে সরিয়ে দেয় । সবকটি রুম পর্যবেক্ষণের পর সেই রুমগুলি তালা বন্ধ করে সিল করে দেয় পুলিশ । বিধায়কের গোপন ডেরাতে জনতার হানা ও সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, মজুতের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য ।
এ বিষয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “আমার বাড়িতে কালী মন্দির আছে। আমি রোজ মায়ের পুজো করি। ওই গেস্ট হাউসে কত বয়স্ক মানুষের ছেলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে এই সব নোংরা জিনিসপত্র রেখে অপবাদ দিয়ে আমাকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।



